সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনটা যে সত্যি, আর কোনটা নকল বোঝা দায়। কারও ব্যক্তিগত জীবনে হয়তো সম্পর্ক একদম ভাল না, দিনরাত ঝগড়া, ঝামেলা লেগেই আছে, এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুজনের একসঙ্গে হাসিমুখের ছবি। আবার, বাস্তবে কেউ ঠিক এতটা বড়লোক নন, কিন্তু প্রোফাইল জুড়ে সাজানো বিলাসবহুল জীবনের টুকরো ছবি। আর এই ছবিকে বিশ্বাস করে অনেকেই বিপদে পড়েন। ঠিক যেমন সম্প্রতি এক কলেজ পড়ুয়ার সঙ্গে ঘটল।
সমাজমাধ্যম থেকেই ছেলেটির সঙ্গে আলাপ হয় যুবতীর। সেই আলাপ বন্ধুত্বে গড়াতে বেশি সময় নেয়নি। আর সেখান থেকেই প্রেম। ইনস্টাগ্রামে ছেলেটি তাঁর প্রোফাইল জুড়ে বিলাসবহুল জীবনের ছবি সাজিয়ে রেখেছিল। বড় বাড়ি, গাড়ি, দামি দামি জিনিস, ইত্যাদি। সেসব দেখে আরও বেশি মোহিত হয়ে যায় মেয়েটি। প্রেমিকের সঙ্গে আয়েশ করে জীবন কাটানোর নেশায় বাড়ি ছাড়ে সে। তারপরই বাস্তবের কড়া মাটিতে আছাড় খায়।
মেয়ে বাড়ি থেকে বেপাত্তা হতেই পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। মিসিং কমপ্লেন নথিভুক্ত হতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং এই জুটিকে খুঁজে বের করে। আর তখনই জানা যায় ছেলেটি মোটেই বড়লোক না। সে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি পোস্ট করত, সেগুলো কোনওটাই সত্যি নয়।
যে প্রেমিকের সঙ্গে সুখে থাকবে বলে বাড়ি ছেড়েছিল যুবতী আদতে সেই ব্যক্তি একজন রং মিস্ত্রি। অনলাইনে ভুয়ো ছবি পোস্ট করে, নিজেকে বড়লোক দেখিয়ে অল্প বয়সীদের মেয়েদের জালে ফেলত। অনলাইনে পোস্ট করা কোনও ছবির সঙ্গে বাস্তবের দূরদূরান্ত সম্পর্ক নেই।
আপাতত সেই মেয়েটিকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। তবে এই ঘটনার কারণে যে অনলাইনে আলাপ হওয়া কাউকে বিশ্বাস করাটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটা আরও একবার মনে করিয়ে দিল যেন।















