শাস্ত্র মতে, দেবী দুর্গার ১০৮টি রূপের একটি বিপত্তারিণী। ভক্তদের কাছে দুর্গা কখনও জগদ্ধাত্রী, কখনও কালী। তিনিই আবার দেবী বিপত্তারিণী। পরিবারকে সমস্ত প্রকার বিপদ থেকে বাঁচাতে এবং মঙ্গলকামনার উদ্দেশ্যে বিপত্তারিণীর পুজোর রীতি রয়েছে।
আষাঢ় মাসের রথ এবং উল্টোরথের মাঝের মঙ্গল এবং শনিবার দেবী বিপত্তারিণীর ব্রত পালন করা হয়। এবছর গত শনিবার ১ শ্রাবণ অর্থাৎ ১৮ জুলাই এবং আজ মঙ্গলবার ৪ শ্রাবণ, ২১ জুলাই পালিত হচ্ছে বিপত্তারিণী ব্রত।
এই পুজোয় সব কিছুই ১৩টি করে দেবীকে নিবেদন করার রীতি রয়েছে। ব্রতপালনের সময় উপচার হিসাবে ভক্তরা ১৩ রকম ফুল ও ফল দিয়ে দেবীর ব্রতপালন করেন। পুজোতে লাল রঙের তাগা অর্থাৎ এক গুচ্ছ লাল সুতো ও দুর্বা বাঁধারও রীতি রয়েছে। কিন্তু কেন এই পুজোয় লাল তাগা বাঁধা হয় জানেন?
আসলে কথিত রয়েছে, এই সুতো সমস্ত অমঙ্গল, বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ রাখে। বিপত্তারিণী পূজা ছাড়াও পূরাণে লাল সূতো ব্যবহার করার কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়।
পুরাণ মতে, ভক্ত প্রহ্লাদের পুত্র বলিরাজ ব্রহ্মার আশীর্বাদে স্বর্গ, মর্ত ও পাতালের অধিকারী হয়েছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রের সিংহাসন রক্ষা করতে বিষ্ণু ব্রাহ্মণ রূপে জন্ম নেন। বলিরাজকে পাতালে পাঠিয়ে দেন। ভগবান বিষ্ণু বলিকে অমরত্ব দান করলে, আর্শীবাদ স্বরূপ তিনি তাঁর হাতে বেঁধে দেন লাল সুতো। সেই থেকেই হিন্দুদের মধ্যে হাতে লাল সুতো বাঁধার প্রচলন রয়েছে।
পুরাণের আরও একটি মত প্রচলিত আছে। এক সময় দেবতা ও অসুরের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। অসুরদের পরাক্রম দেখে দেবরাজ ইন্দ্র খুবই চিন্তায় পড়ে যায়। স্বামীকে চিন্তিত দেখে স্ত্রী ইন্দ্রাণী তাঁর জন্য প্রার্থনা শুরু করলেন। ইন্দ্রানী তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি একত্রিত করে লাল সুতো দিয়ে একটি সুতো তৈরী করেন। সেই সুতো গলায় বেঁধে অসুরের বিরুদ্ধে দেবতাদের জয়লাভে নেতৃত্ব দেন ইন্দ্র।
এই প্রচলিত বিশ্বাস থেকেই আজও বাংলার ঘরে ঘরে মহিলারা সংসারের বিপদ কাটাতে ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে দেবী বিপত্তারিণীর পুজো করে থাকেন। সেই সঙ্গে পরিজনের হাতে বেঁধে দেন তাগা।
















