ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই নানা ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী সামনে আসে। কেউ জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্যে ম্যাচের ফল বলেন, কেউ আবার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিজয়ী দলের নাম অনুমান করেন। তবে এবার বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক বিশেষ বিড়াল। তার নাম বিলি। অনেকেই এখন তাকে ‘সাইকিক ক্যাট’ বা ভবিষ্যৎবাণী করা বিড়াল বলে ডাকছেন।
আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা এই বিড়ালটি দেখতে একেবারে সাধারণ হলেও তার ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষমতা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে। জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের আগে বিলির সামনে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের পতাকা রাখা হয়। এরপর সে যে পতাকার দিকে এগিয়ে যায় বা থাবা দেয়, সেই দলকেই সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ধরা হয়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এখন পর্যন্ত বিলির করা বেশিরভাগ ভবিষ্যদ্বাণীই নাকি সত্যি হয়েছে। ড্র হওয়া ম্যাচগুলি বাদ দিলে সে টানা একাধিক ম্যাচের বিজয়ী দল সঠিকভাবে বেছে নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সাফল্যের কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সে।
বিলির মালিকরা জানিয়েছেন, প্রথমে বিষয়টি শুধুই মজার ছলে শুরু হয়েছিল। তারা ভাবেননি যে একটি সাধারণ খেলা এত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যাবে। কিন্তু একের পর এক সঠিক পূর্বাভাসের পর ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এখন হাজার হাজার মানুষ বিলির পরবর্তী ভবিষ্যদ্বাণীর অপেক্ষায় থাকেন।
তবে এই ধরনের ঘটনা ফুটবল বিশ্বে নতুন নয়। ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে পল দ্য অক্টোপাস নামের একটি অক্টোপাস সঠিকভাবে একাধিক ম্যাচের ফল অনুমান করে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত হয়েছিল। এরপর আরও কয়েকটি প্রাণীকে কেন্দ্র করে এমন ভবিষ্যদ্বাণীর ঘটনা সামনে এসেছে। সেই তালিকায় এবার নতুন সংযোজন বিলি।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, এর পিছনে কোনও অলৌকিক শক্তি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। প্রাণীরা সাধারণত খাবার, গন্ধ বা পরিবেশের প্রভাবে কোনও একটি দিক বেছে নেয়। পরে সেটি কাকতালীয়ভাবে সঠিক প্রমাণিত হতে পারে। তাই এসব ভবিষ্যদ্বাণীকে বিনোদনের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
তবুও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিষয়টি দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝে বিলির ভবিষ্যদ্বাণী যেন আলাদা এক আনন্দ যোগ করেছে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, বিশ্লেষক বা বিশেষজ্ঞদের চেয়েও নাকি এই বিড়ালের ভবিষ্যদ্বাণী বেশি নির্ভুল!
এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও বিলি তার সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পারে কি না। তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, এই ছোট্ট বিড়ালটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়ে নিয়েছে।















