আজকের ব্যস্ত জীবনে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ খুবই সাধারণ বিষয়। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা, ঘুমের অভাব বা অতিরিক্ত চিন্তা-সব মিলিয়ে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই স্ট্রেস শুধু মনের উপর নয়, শরীরের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে।


দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই পরিবর্তনের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। অনেক সময় শরীর কিছু লক্ষণের মাধ্যমে জানান দেয় যে মানসিক চাপ কমানো প্রয়োজন।জেনে নিন এমন ৫টি লক্ষণ- 

১. হঠাৎ মুখে ব্রণ বেড়ে যাওয়া: অনেকেরই দেখা যায়, হঠাৎ করে মুখে ব্রণ বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি বেরতে শুরু করেছে। এর পিছনে শুধুমাত্র ত্বকের সমস্যা নয়, অতিরিক্ত স্ট্রেসও দায়ী হতে পারে। মানসিক চাপ বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। ফলে ত্বকে তেলের পরিমাণ বেশি তৈরি হতে পারে। সেই অতিরিক্ত তেলের কারণে রোমকূপ বন্ধ হয়ে গিয়ে ব্রণ হতে পারে। এছাড়া স্ট্রেসের কারণে ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, ফলে চুলকানি, র‍্যাশ বা ত্বকের জ্বালাও দেখা দিতে পারে।


২. গ্যাস, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা: মস্তিষ্ক ও পেটের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই বেশি চিন্তা বা দুশ্চিন্তার প্রভাব পড়ে হজমশক্তির উপর।অতিরিক্ত স্ট্রেসে অনেকের গ্যাস হয়,পেট ফাঁপে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, কখনও আবার পাতলা পায়খানাও হতে পারে, পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়। যারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকেন, তাঁদের মধ্যে ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ (আইবিএস)-এর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


৩. ঘুমের সমস্যা: স্ট্রেসের কারণে রাতে ঘুম না আসা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। মাথায় অতিরিক্ত চিন্তা ঘুরতে থাকলে মস্তিষ্ক শান্ত হতে পারে না। ফলে ঘুমাতে দেরি হয় বা মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। সারাদিন ক্লান্ত লাগা, কাজে মন না বসা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।


৪. মাথাব্যথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা: অতিরিক্ত মানসিক চাপের সময় শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ঘাড়, কাঁধ ও মাথার আশপাশে চাপ অনুভূত হয়। অনেকের স্ট্রেসের কারণে বারবার মাথাব্যথা হয়, ঘাড়ে ব্যথা হয়, পিঠ বা কাঁধে অস্বস্তি হয়। এই ধরনের ব্যথা অনেক সময় বিশ্রাম নিলেও পুরোপুরি কমে না, কারণ এর মূল কারণ হতে পারে মানসিক চাপ।


৫. বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া: দীর্ঘদিনের স্ট্রেস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে সহজেই ঠান্ডা-কাশি, জ্বর বা ছোটখাটো সংক্রমণ হতে পারে। যাঁরা সবসময় চাপের মধ্যে থাকেন, তাঁদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে অসুস্থতা থেকে সেরে উঠতেও বেশি সময় লাগতে পারে।


স্ট্রেস কমানোর জন্য কী করতে পারেন? স্ট্রেস পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখা, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত ঘুমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং কাছের মানুষের সঙ্গে নিজের সমস্যাগুলি ভাগ করে নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।


ব্রণ, পেটের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা বা অন্য কোনও উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে শুধু স্ট্রেস ভেবে অবহেলা করবেন না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ একই ধরনের লক্ষণ অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে।