আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভায় বিধায়কদের আলোচনায় খুনসুটি রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির। সোমবার বিধানসভায় স্বাস্থ্য বিষয়ক বাজেটের উপর আলোচনায় বিরোধী দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখে ওঠেন। নওশাদ সিদ্দিকি কথা বলতে শুরু করতেই  শিল্পীমন্ত্রী তাপস রায়  হাসতে হাসতে নওশাদকে নিজেরা স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে বলেন। পাল্টা নওশাদও কিন্তু দমেননি। হাসতে হাসতেই উত্তর, 'আমার স্বাস্থ‍্যের থেকে এ রাজ্যের স্বাস্থ্যের হাল আরও খারাপ।'

নওশাদ বলেন, 'একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয়, তার নাগরিকদের দেওয়া স্বাস্থ্য পরিষেবার মানের উপর নির্ভর করে। যে সরকার তার নাগরিকদের সময়ে স্বাস্থ্যপরিষেবা দিতে পারে না, সেই সরকার স্বাভাবিক ভাবেই উন্নয়নের দাবিতে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২৬-২৭ অর্থ বর্ষের জন্য ২৪হাজার ৭৫৩কোটি বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে।' নওশাদের বক্তব্য এই বরাদ্দের পরিমাণ আশাব্যাঞ্জক হলেও, প্রশ্ন থেকে যায়, স্বাস্থ্যখাতে উন্নতি আদৌ হবে?  নাকি বিগত দিনের মতো একই পরস্থিতি থাকবে। বরাদ্দের পরিমাণের থেকে অনেক বেশি নজরে থাকবে রোগীদের পাওয়া পরিষেবার দিকে। 

তিনি বলেন, 'ন্যাশনাল হেলথ পলিসিতে বহুদিন ধরেই সরকারি স্বাস্থ্যত ব্যয় বাড়ানোর কথা বলেছে। এই অর্থবর্ষে, স্বাস্থ্য খাতে সরকার ৩৫০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করেছে। তা আশা দেখাচ্ছে। তবে বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, কোন খাতে কীভাবে খরচ হচ্ছে, প্রশ্ন থাকছে তা নিয়েই।' সরকারের কাছে পাঁচটি মৌলিক প্রশ্ন রাখেন নওশাদ। বাজেটে, চিকিৎসক-নার্স-এর শূন্য পদ পূরণের পরিকল্পনা কোথায়? নথি তুলে বিধায়ক বলেন, 'সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ হেলথ ইন্টেলিজেন্স-এর তথ্য অনুযায়ী ৭৮ হাজার রেজিস্টার্ড অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক রয়েছেন। মাত্র ১৭হাজার ৬৯২ জন সরকারি পরিষেবা দেন। তথ্য বলছে নার্স-ডাক্তার মিলিয়ে রাজ্যে ৬৫ শতাংশ শোর্টেজ আছে।' হু-এর নির্দেশিকা তুলে ধরে তিনি জানান, ডাক্তারদের জন্য ১০০০ জন পিছু ১ জন, নার্স ৫০০ জন পিছু ১ জন থাকার কথা। রাজ্যে ঘাটতি ব্যাপক। সেই তথ্য তুলে ধরেন নওশাদ। 

জেলা হাসপাতালগুলিকে সুপারস্পেশালিটি বানানোর কী পরিকল্পনা রয়েছে? সেই প্রশ্নও তোলেন বিধায়ক। সঙ্গেই তিনি বলেন, এক্সরে মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নেই। টেকনিশয়ান থাকলে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেই।  বলেন, 'বেড এর ক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ জন পিছু ৩-৫ বেড দরকার, রাজ্যে ১০০০ মানুষ পিছু ১ বা তার কিছু বেশি বেড।' গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিমাণ, সরকারি হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ওষুধ, রোগ নির্নায়ক পরিষেবা, বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় কীভাবে খরচ হচ্ছে তার হোয়াইট পেপার আনার কথাও বলেন নওশাদ। 

একইসঙ্গে তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় ভাবে রেফার সিস্টেম করা হোক। সঙ্গেই, আমাদের বিধায়কদের পরিবারের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে যাই। এটা বন্ধ করা দরকার।'