আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাবালিকা-সহ একাধিক তরুণীকে পাচার করে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (AHTU)। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে নদিয়ার কল্যাণী থানার অন্তর্গত এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে একটি সুসংগঠিত ও সক্রিয় যৌন পাচার চক্রের ভয়াবহ চিত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বউবাজার থানার একটি মামলার তদন্তে নেমে লালবাজারের AHTU শাখা জানতে পারে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাবালিকা ও তরুণীদের প্রলুব্ধ করে এনে দেহব্যবসায় নিযুক্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একে অপরের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দীর্ঘদিন ধরে এই পাচারচক্র চালিয়ে আসছিল। এই মামলায় গতকাল সোমবার যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা হলেন সাথী বিশ্বাস ওরফে টিনা (২৭) এবং তনয় দাস (২৫)। কল্যাণীর আইটিআই মোড় সংলগ্ন একটি ক্যাফে থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া নাবালিকা ও তরুণীদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় জামিন অযোগ্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), পকসো আইন এবং অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার বটতলা থানায় মামলার রুজু হয়। ১১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়েছিল ছয় জন ব্যক্তি। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয় জনকেই কল্যাণী আইটিআই মোড় থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ধৃতদের মধ্যে একজন সরস্বতী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আখড়ার মালিক এবং সরাসরি এই পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাঁকে সহায়তা করতেন অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি চার জন অভিযুক্তরা বিভিন্ন এলাকা থেকে নাবালিকা ও প্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের ফাঁদে ফেলে কলকাতায় এনে ওই আখড়ায় কাজে লাগাত। সকলকেই প্রলোভন দেওয়া হত চাকরির। আরও অভিযোগ, পাচার হওয়া ওই সকল নাবালিকা ও তরুণীদের বলপূর্বক যৌনশোষণের কাজে লিপ্ত করা হত। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১১ জন নাবালিকা ও তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “নাবালিকাদের যৌন শোষণ একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।”
