জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণ ও সামাজিক পরিকাঠামো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের জনশুমারি ভারতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হতে চলেছে। কোভিডের কারণে ২০২১ সালের নির্ধারিত প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর, এটি দেশের ১৬তম জাতীয় জনশুমারি এবং স্বাধীনতার পর ৮ম আদমশুমারি হিসেবে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
2
9
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে 'রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনার'-এর দপ্তর দ্বারা পরিচালিত এই প্রক্রিয়াটিতে প্রথমবার ডিজিটাল ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপস, সেলফ-এনিউমারেশন পোর্টাল এবং ১৯৩১ সালের পর প্রথমবারের মত বিস্তারিত সামাজিক তথ্যের সংযোজন—এই প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ আধুনিক রূপ প্রদান করেছে।
3
9
দুই ধাপে শুমারি প্রক্রিয়াএই ঐতিহাসিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডটি মূলত দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন করা হবে:প্রথম ধাপ (হাউসলিস্টিং ও হাউজিং সেন্সাস): প্রতিটি পরিবারের আবাসন পরিস্থিতি, উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা এবং সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
4
9
দ্বিতীয় ধাপ (সেলফ-এনিউমারেশন সেন্সাস): দেশের প্রতিটি নাগরিকের জনসংখ্যাবিষয়ক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক তথ্যাদি রেকর্ড করা হবে।ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীনতার পর: আদমশুমারির ক্রমবিকাশ (১৮৭২–২০২৭)ব্রিটিশ আমলের প্রথমিক সময় (১৮৭২–১৯৪১):১৮৭২ সালে লর্ড মেওর আমলে ভারতের প্রথম (অ-সমকালীন) জনশুমারি পরিচালিত হয়।
5
9
এরপর ১৮৮১ সালে ডব্লিউ.সি. প্লাউডেনের নেতৃত্বে প্রথম সমন্বিত ও সমকালীন শুমারি শুরু হয়। ১৮৯১ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ এবং সামাজিক কাঠামোর তথ্য সংগ্রহের পরিধি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
6
9
উল্লেখ্য, ১৯২১ সালকে ভারতের জনসংখ্যার ইতিহাসে 'গ্রেট ডিভাইড' বা মহা-বিভাজনের বছর বলা হয়, কারণ এই সময়ে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক ছিল।
7
9
১৯৪১ সালের শুমারিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের অধ্যায় (১৯৫১–২০২৭):১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারিতে প্রায় ৩৬ কোটি মানুষের গণনা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে কর্মসংস্থান ও পরিযায়ী শ্রমিক, ১৯৭১ সালে প্রজনন হার এবং ১৯৮১ ও ১৯৯১ সালে সাক্ষরতার হার পরিমাপের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করা হয়।
8
9
২০০১ সালে ডাটা ডিজিটাইজেশনের জন্য 'ইন্টেলিজেন্ট ক্যারেক্টার রিকগনিশন' প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় এবং ২০১১ সালে ১২১ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা রেকর্ড করার পাশাপাশি ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টারের সূচনা হয়।
9
9
ভারতের দীর্ঘ ১৬০ বছরেরও বেশি সময়ব্যাপী এই ঐতিহাসিক কাঠামোর আধুনিকতম রূপ হচ্ছে ২০২৭ সালের শুমারি, যা ডিজিটাল ভারতের নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।