আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে-বাইরে বেসুরো সুর। রীতিমতো দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরসভার করিডর ইতিমধ্যেই তার সাক্ষী। এবার ফের একবার সেই সুর বেশ জোরালো দলে। আগেই কালীঘাটে না গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র পরিষদ তারক সিং। মমতার মিটিংয়ে কেন যাননি? সেদিনই তারক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন “কী করব ওখানে গিয়ে? পুরসভায় মেয়র পরিষদ কার্যকরী হচ্ছে না আর ওই ঘরে গিয়ে মিটিং করে কী হবে?” সেদিন থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনাই বাস্তবে রূপ পেল। পদত্যাগ করলেন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পারিষদ তারক সিং।
এর আগে তারক সিং বলেছিলেন, “আমরা যখন অত্যাচারিত হচ্ছি তখন দলের কেউ একজনও ফোন করে খোঁজ নিচ্ছে না। যাঁরা আমাদের প্রোটেকশন দিতে পারছে না, নিজেদের প্রটেকশন যদি নিজেদেরই নিতে হয়, তাহলে ওই মিটিংয়ে গিয়ে কী হবে? তাই যাইনি।” কিছুদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন তারক সিং। সরাসরি নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছিলেন তারক। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন, 'কর্মী এবং সমর্থকদের কোনওভাবেই সুরক্ষা দিচ্ছে না দলীয় নেতৃত্ব। যে কারণে ওই ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানের বাণী শোনার তাঁর কোনও ইচ্ছে নেই।' তারক আরও বলেন, 'যে নেতৃত্ব ব্যর্থ, যে নেতৃত্ব কর্মীর সঙ্গে থাকতে পারে না, কী করবে, আমাকে খালি দল থেকে বার করে দেবে। দেবে। আই ডোন্ট বদার।'
এদিন পদত্যাগ করে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও কাঠগড়ায় তোলেন তারক। সেই সূত্রেই তারক বলেন, ''আমি পদত্যাগ করলেও কলকাতায় যাতে জল না জমে, সেই বিষয়টি আমি দেখব।'' কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে জন্মলগ্ন থেকে রয়েছেন। ২০ বছরের কাউন্সিলর। বিগত ১৬ বছর ধরে পুরসভায় মেয়র পারিষদ পদে রয়েছেন। ভোটের ফল প্রকাশের পরই তারক জানিয়েছিলেন, তিনি শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, একদম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, যিনি অভিষেককে নেতা বানিয়েছেন, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে।
কয়েকদিন আগে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে মমতা যে বৈঠক ডেকেছিলেন, সেই বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না তারক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, মেয়র পারিষদের কোনও কাজই হচ্ছে না । আর ওই ঘরে বসে মেয়র পারিষদের বৈঠক হতে পারে না। যদি দলীয় বৈঠক হয়, তা হলে বলব, যাঁরা আমাদের সুরক্ষা দিতে পারেন না, পাশে থাকেন না, তাঁদের কাছে যাওয়ার কোনও অর্থ নেই। আমার দায়িত্ব কলকাতাবাসীকে জল জমার হাত থেকে রক্ষা করা । আমি বদনাম নিয়ে যেতে চাই না। আমি আমার কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করব।'















