আজকাল ওয়েবডেস্ক: দু'বছর হতে চলল আরজি কর কাণ্ডের। যে হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী বাংলা-সহ গোটা দেশ। কী ভাবে ডিউটিরত অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালের ভিতরেই মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ করে খুন করা হয়, প্রকাশ্যে আসতেই কেঁপে ওঠেন জনগণ। কিন্তু সেই তদন্তের কোনও সুরাহা হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসতেই মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন ফের খোলা হবে তদন্তের ফাইল। মঙ্গলবার বিধানসভায় সেই ঘটনা নিয়ে ফের কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দেন, আর জি করের ঘটনার বিচার হবে। সব কিছুর হিসাব নেওয়া হবে, কোনও ছাড় মিলবে না। দুর্নীতি, অনাচার, সন্ত্রাস রুখতে রাজ্যে 'জিরো টলারেন্স' নীতি মেনে চলা হবে বার্তা দেন তিনি। এ জন্য নতুন আইন প্রণয়নের ভাবনাও রয়েছে সরকারি পরিকল্পনায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই বিধানসভাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভয়ার মা।
বিধানসভায় এদিন নিজের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যেই দু'টি কমিশন তৈরি করেছি যা ক্যাবিনেট অনুমোদন দিয়েছে। মহিলাদের উপর সমস্ত অত্যাচারের যথাযথ বিচারের জন্য কমিশন তৈরি করা হয়েছে। আরজি করেরও বিচার হবে। অভয়াকাণ্ডের বিচার দিতেই বাংলার মানুষ বিজেপিকে জিতিয়ে এনেছে। আমরা ইতিমধ্যেই তিন জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছি। আরও যাঁরা বাকি আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। শুধু অভয়া না। তামান্নার মা বিচার পাবেন। রামপুরহাটের আদিবাসী কন্যার পরিবার বিচার পাবে। কামদুনি, হাঁসখালি, কসবা ল' কলেজ-এও 'জিরো টলারেন্স নীতি' নেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, রাজ্যে শুভেন্দুর সরকার আসতেই নতুন করে খোলা হয়েছে 'আর জি কর ফাইলস'। এই ঘটনায় মাসখানেক আগে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ তিনজন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্ত। রেকর্ড করা হয় ওই দুই পুলিশ অফিসারের বয়ান। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকেও তলব করা হয়। যদিও তিনি হাজিরা দেননি। ে ছাড়া, পানিহাটি শ্মশানেও যান সিবিআই-এর বিশেষ তদন্তকারী দলের চার সদস্য ঘটনার তদন্ত করতে যান। পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও তৃণমূল পরিচালিত পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে সেই সূত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।















