যে বাড়িতে একসময় গাছেদের সঙ্গে কথা বলতেন কিশোর কুমার, আজ সেখানেই বিরাট কোহলির রেস্তরাঁ!
নিজস্ব সংবাদদাতা
৮ আগস্ট ২০২৬ ২১ : ০৫
শেয়ার করুন
1
9
মুম্বইয়ের জুহুতে এমন একটি বাড়ি রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হিন্দি সিনেমার এক কিংবদন্তির অসংখ্য স্মৃতি। বাড়িটির নাম ‘গৌরী কুঞ্জ’। একসময় এই বাড়িই ছিল কিশোর কুমারের নিজের পৃথিবী। সিনেমার ব্যস্ততা থেকে দূরে তাঁর শান্তির জায়গা, গান তৈরির জায়গা, নিজের মতো করে থাকার জায়গা।
2
9
আজ সেই বাড়ির একটি অংশে রয়েছে ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির রেস্তরাঁ One8 Commune। ফলে একই ঠিকানা যেন দুই ভিন্ন সময়ের দুই তারকার গল্পকে একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেছে।
3
9
কিশোর কুমার বাড়িটির নাম রেখেছিলেন তাঁর মা গৌরী দেবীর নামে। ‘গৌরী কুঞ্জ’ তাঁর কাছে কোনও সাধারণ বিলাসবহুল তারকার বাড়ি ছিল না। বরং কিশোর এমন একটি জায়গা চেয়েছিলেন, যেখানে সিনেমা জগতের কোলাহল থেকে একটু দূরে নিজের মতো করে থাকা যায়। কিশোর কুমার বাড়িটির নাম রেখেছিলেন তাঁর মা গৌরী দেবীর নামে। ‘গৌরী কুঞ্জ’ তাঁর কাছে কোনও সাধারণ বিলাসবহুল তারকার বাড়ি ছিল না। বরং কিশোর এমন একটি জায়গা চেয়েছিলেন, যেখানে সিনেমা জগতের কোলাহল থেকে একটু দূরে নিজের মতো করে থাকা যায়।
বাড়িটির নকশাতেও সেই ভাবনাই ছিল।
4
9
বিশাল কোনও জাঁকজমকপূর্ণ ফ্যাসাডের বদলে খোলা জায়গা, প্রাকৃতিক আলো, সবুজ বাগান, লন এবং উঠোন—সব মিলিয়ে বাড়িটিকে অনেকটা শান্তির আশ্রয়ের মতো করে গড়ে তোলা হয়েছিল।
5
9
গাছেদের তিনি নিজের সঙ্গী মনে করতেন। এমনকী কয়েকটি গাছের নামও দিয়েছিলেন। দরজার বাইরে লেখা থাকত ‘Beware of Kishore’ ব্যক্তিগত জীবনে গোপনীয়তা পছন্দ করতেন কিশোর৷
6
9
‘গৌরী কুঞ্জ’-এর সঙ্গে কিশোরের গান এবং সৃষ্টিশীলতারও গভীর সম্পর্ক ছিল। শিল্পী, সুরকার এবং ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ মানুষজনের আনাগোনাও ছিল এখানে।
তবে সবকিছুর মধ্যেও বাড়িটি ছিল কিশোরের ব্যক্তিগত আশ্রয়।
7
9
২০২২ সালে ‘গৌরী কুঞ্জ’-এর একটি অংশ লিজ নিয়ে সেখানে বিরাট কোহলির One8 Commune চালু হয়।
তবে পরিবর্তনের সময় পুরনো বাড়ির চরিত্র পুরোপুরি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়নি। বরং আধুনিক রেস্তরাঁর সঙ্গে জায়গাটির পুরনো আবহকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
8
9
কাঠ, পাথর, ইট, ব্রাস, কাচ এবং সবুজ গাছপালা—এই উপাদানগুলিকে ব্যবহার করে One8 Commune-এর অন্দরসজ্জা তৈরি হয়েছে। বড় কাচের অংশ দিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঢোকে। চারপাশে রয়েছে সবুজের ছোঁয়া। ফলে আধুনিক রেস্তরাঁ হলেও জায়গাটির মধ্যে পুরনো বাগানবাড়ির একটা আবহ এখনও অনুভব করা যায়।
9
9
একজন ছিলেন সুরের জাদুকর। অন্যজন ক্রিকেট মাঠের কিংবদন্তি। পেশা আলাদা, সময় আলাদা, পরিচয় আলাদা। কিন্তু দু’জনের ক্ষেত্রেই একটা বিষয় যেন মিলে যায়—নিজের মতো করে কিছু তৈরি করার ইচ্ছে।