রিয়া পাত্র
দলনেত্রী সিলমোহর দিয়েছিলেন তাঁর নামের পাশে। বিধানসভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নাম লেখা ছিল তাঁরই। আজকাল ডট ইন-কে জানিয়েছিলেন, দলের দেওয়া দায়িত্ব পালন করবেন। মাঝে বিস্তর ঘটনা।। না বিধানসভায় গৃহীত হয়েছে অভিষেকের চিঠি, না শোভনদেবের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলনেতার ঘর।
উলটে বুধে ঘুরে গিয়েছে গোটা ঘটনা। মমতা-অভিষেকের বাছাইকে পাশ কাটিয়ে, ৫৮জন বিধায়ক বিরোধী দলনেতা হিসেবে সিলমোহর দিয়েছে ঋতব্রত ব্যানার্জির নামের পাশে। তালা বন্ধ ঘরের চাবিও তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁর হাতেই। ঋতব্রত আবার বলছেন, এই পরিষদীয় দলের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি চান মমতা ব্যানার্জিকেই। টিম ঋতব্রতর দাবি, তাঁদের নেত্রী মমতাই।
এই পরিস্থিতিতে কী বলছেন মমতার 'চয়েস' শোভনদেব? আজকাল ডট ইন-কে সাফ জানান, 'এটা হয় নাকি কখনও। বেআইনি এটা। কোনও সুস্থ মস্তিস্কের লোক এসব করে না।'
দীর্ঘকাল সংসদীয় রাজনীতিতে যুক্ত শোভনদেব বলছেন, 'বাংলায় আমি এরকম ঘটনা দেখিনি কখনও।' সঙ্গেই তিনি বলছেন, 'এই পরিষদীয় দলের কোনও অস্তিত্বই নেই এখানে। যাঁরা করছেন এসব, তাঁরা আইন জানেন না, পড়েনও না। আমি আইন পড়েছি।'
দল কী ভাবছে আজকের ঘটনার পর? মমতা কী বার্তা দিলেন দীর্ঘদিনের রাজনীতির সঙ্গী শোভনকে? যদিও এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি, বালিগঞ্জের বিধায়ক।
রাজ্য রাজনীতিতে এবার চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভূমিকম্প বলা যায়। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এখনও এক মাসও কাটেনি, তার মধ্যেই কার্যত তছনছ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে রাজ্য বিধানসভার ভেতরেই তৈরি হয়ে গেল দুটি আলাদা গোষ্ঠী। যদিও দল একই, কিন্তু দুই ভাগ, স্পষ্ট। বুধেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। তাঁর এই নতুন দলে উপ-দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। বিধানসভায় এবার তৃণমূলের কোন গোষ্ঠীর কৌশল কী হয়, নজর সেদিকেই।















