আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে যুবদের ওপর পুলিশের আচরণের তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, দিল্লিতে যুবকদের ওপর পুলিশের যে নির্যাতন হয়েছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ আকবর রোডে বিরোধী দলগুলির অবস্থান-বিক্ষোভকে সর্বাত্মক সমর্থনের কথা জানিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। 


একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শহিদ দিবসের কর্মসূচিকে বানচাল করার চেষ্টা হয়েছে কলকাতাতেও। তাঁর দাবি, সোমবার গভীর রাত থেকে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা মোটরবাইক বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায়। শহিদ দিবসের প্রস্তুতির জন্য লাগানো সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়, মঞ্চে নাশকতা চালানো হয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোফোনের তার কেটে দেওয়া হয়। তৃণমূলের বহু যুবক-যুবতীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে আহতও হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে এই সমস্ত বাধা ও হামলার পরেও কলকাতার শহিদ দিবসের কর্মসূচি সফল হয়েছে বলে দাবি মমতার। তাঁর কথায়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এ বছরের শহিদ দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিও।


সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বার্তায় অভিষেক বলেন, “লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।”


তিনি আরও বলেন, “একটি সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নয়, বরং সংবিধান স্বীকৃত একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। সাংবিধানিক পদ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান বেছে বেছে দেখানো যায় না। একইভাবে, জবাবদিহির দাবি কখনও ভয় দেখানো বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়।”

প্রসঙ্গত,  নয়াদিল্লিতে মঙ্গলবার স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের অন্যতম নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা করে এবং প্রশ্নফাঁস ও ছাত্রদের উপর ‘আক্রমণ’-এর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হয়।


 দীর্ঘক্ষণ অবস্থান-বিক্ষোভের পর পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতাকে আটক করে। মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ১০, রাজাজি মার্গে খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন। 


মূল দাবি ছিল, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সংসদে বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। বিক্ষোভ চলাকালীন এক নজিরবিহীন ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনস্থলে পৌঁছে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। সরকার ও কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।