আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুঃসময়েই নাকি প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীদের চেনা যায়! রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর একনাগাড়ে ঝড়ঝাপটা বয়েই চলেছে তৃণমূলের অন্দরে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির আশেপাশেও ঘুরতে দেখা যাচ্ছে না এককালের দাপুটে নেতাদের ও 'ছায়াসঙ্গী'দের। ঠিক সেই অস্থিরতার আবহেই ফের মমতা ও অভিষেকের ছায়াসঙ্গী 'প্রিয় কানন'।
প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি। ২০০০ সাল থেকে মমতা ব্যানার্জির দলের একজন লড়াকু সৈনিক। যদিও মাঝে মন কষাকষির জেরে দূরত্ব বেড়েছিল। কিন্তু কঠিন সময়ে আবারও 'দিদি'র পাশেই দেখা গেল তাঁকে। যা শনিবার রাতে রীতিমতো 'টক অফ দ্যা টাউন'।
আজ সোনারপুরে প্রবল জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক। তাঁকে লক্ষ করে পাথর, ইট, ডিম, কাদা ছোঁড়া হয়। 'আক্রান্ত' অভিষেক কলকাতায় পৌঁছেই একের পর এক হাসপাতালে ছুটে যান। যদিও কোনও হাসপাতালই তাঁকে ভর্তি নেয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে অভিষেকের সঙ্গে তো বটেই, রাত ১২টা পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জির পাশেই দেখা গেল শোভন চ্যাটার্জিকে।
বেলভিউ হাসপাতালে সেই সময় আইটিইউতে অভিষেক। মাঝে একবার বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "প্রথমেই জানিয়ে দিই, আমি কোনও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেব না। সেই অবস্থায় আমি এখন নেই। আমি অভিষেককে জন্মাতে দেখেছি। আমার সামনে বড় হতে দেখেছি। আর মমতা ব্যানার্জির কাছে আমি বড় হয়েছি। যখন আজকের ঘটনা শুনেছি, তখনই মমতাদির কাছে ছুটে গিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছি। ওর যে ধরনের ইমিডিয়েট ট্রিটমেন্ট দরকার ছিল, সেটা দেওয়া হয়নি। ৩৪ বছরে অধিকাংশ সময় আমরা বিরোধী হিসেবে ছিলাম। এই ধরনের অবস্থায় ভিভিআইপি থেকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কেমন হয়, তা দেখার অভিজ্ঞতা আমার আছে। বরাতজোরে অভিষেক প্রাণে বেঁচেছে।"
শোভন আরও বলেন, "আমার অবস্থান নিয়ে যাঁরা চর্চা করছেন, করুন। কিন্তু আমি মনে করি, এই পরিবারটি যেখানে গায়েত্রী দেবী ছিলেন অভিভাবক, মমতাদি ছিলেন প্রধান, তখনও ছুটে গিয়েছিলাম। আজকেও তাই এসেছি। আমার তরফ থেকে যা করার থাকবে, শেষপর্যন্ত তা করার মানসিকতা রাখি।"
মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে যখন মমতা ছিলেন, সেই সময় যেকোনও পরিস্থিতিতেই পাশে দেখা যেত অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, সায়নী ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, সুজিত বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের। অথচ আজ কেউ নেই! মেয়র ফিরহাদ হাকিম কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। কিছুক্ষণের জন্য পাশে ছিলেন কুণাল ঘোষ, ডেরেক ও ব্রায়েন, কৃষ্ণা চক্রবর্তী। কিন্তু ভর সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত সেই 'কানন'কেই অভিষেকের সঙ্গে সেই হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে যেতে দেখা গেল। এমনকী মধ্য রাতে মমতার সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছেও তদারকি করতে দেখা গেল। যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ফের চর্চা শুরু।















