আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসেই কলকাতা বিমানবন্দরে প্রায় ৩৯৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে কাস্টমসের এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এআইইউ)। এই উদ্ধার পরিমাণ ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট বাজেয়াপ্ত হওয়া ৩৭৮.৯ কেজি গাঁজাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই সময়ে মোট ৫৮টি মামলা রুজু করে এক বিদেশি নাগরিক-সহ ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাস্টমস কমিশনার (এয়ারপোর্ট অ্যান্ড এয়ার কার্গো কমপ্লেক্স)-এর দপ্তর থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযানে এই সাফল্য মিলেছে।
সবচেয়ে বেশি গাজা উদ্ধার হয়েছে জুন মাসে। ওই মাসে ১৯০.৮ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মে মাসে উদ্ধার হয় ১৬৮.২ কেজি গাজা এবং গ্রেপ্তার হন এক বিদেশি নাগরিক-সহ ১৯ জন। এপ্রিল মাসে উদ্ধার হয় ৩৭.৮ কেজি গাঁজা, গ্রেফতার করা হয় ১০ জনকে।
কাস্টমস সূত্রের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাত্রী প্রোফাইলিং, উন্নত ঝুঁকি বিশ্লেষণ (রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট), নজরদারি এবং দেশ-বিদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই এই ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ গাঁজার চালান এসেছে ব্যাঙ্কক থেকে। এছাড়াও ফুকেট, হ্যানয় ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা উড়ানেও মাদক পাচারের চেষ্টা ধরা পড়েছে। চেক-ইন লাগেজের পাশাপাশি কেবিন ব্যাগেজেও মাদক লুকিয়ে আনা হচ্ছিল।
কাস্টমসের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, পাচারকারীরা অত্যন্ত কৌশলী পদ্ধতিতে গাঁজা লুকিয়ে আনছিল। কখনও চকোলেটের প্যাকেট ও মোড়কের ভিতরে, কখনও ট্রলি ব্যাগের দেওয়ালের মধ্যে, কখনও ব্যক্তিগত সামগ্রীর সঙ্গে মিশিয়ে, আবার ভ্যাকুয়াম-সিল করা পাউচ বা প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ব্যাগের গভীরে কিংবা স্যুটকেসের পাশের অংশে এমনভাবে রাখা হচ্ছিল যাতে এক্স-রে স্ক্যান বা সাধারণ তল্লাশিতে ধরা না পড়ে।
কাস্টমসের দাবি, বর্তমানে বিমানবন্দরে আটটি প্রশিক্ষিত কে-৯ স্নিফার ডগ মোতায়েন রয়েছে, যা লাগেজে লুকিয়ে রাখা মাদক শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
শুধু অভিযানই নয়, যাত্রীদের সচেতন করতেও জোর দিচ্ছে কাস্টমস। বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশে স্ট্যান্ডি লাগিয়ে মাদক বহন বা পাচারের আইনি পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে এবং কাস্টমস আইন মেনে চলার আবেদন জানানো হচ্ছে।
















