আজকাল ওয়েবডেস্ক: এতদিন মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে, রীতিমতো শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চলেছে— কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের অনুষ্ঠানে এসে ঠিক এই ভাষাতেই সরব হলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলেন তিনি। আর প্রথম দিনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা প্রবাদপ্রতিম জননেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেন মন্ত্রী। 

এদিনের অনুষ্ঠানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ স্পষ্ট জানান, শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে হয়তো আজকের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোনও অস্তিত্বই থাকত না। উপাচার্যের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে আজ রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে বলেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সেই কথাগুলো বলতে হচ্ছে, যা এতদিন ধরে বিজেপি বলে এসেছে। 

বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের পূর্বতন সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এতদিন ধরে আসল ইতিহাসকে ধামাচাপা দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে। পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার এখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সঠিক ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট চর্চার নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত চিন্তার পীঠস্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পূর্বতন সরকারের উদ্দেশে তোপ দেগে বলেন, যখন ভোটব্যাঙ্ক হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়, ঠিক তখনই দিঘায় জগন্নাথ মন্দির, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির বা নিউটাউনে দুর্গা মন্দির তৈরি করার কথা মনে পড়ে। 

এই বিশেষ দিনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত উপাচার্যদের কাজের বিবরণ বা 'মিনিটস' ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত রয়েছে এবং আগামী দিনে বাকি উপাচার্যদের নথিপত্রও একইভাবে সংরক্ষণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম উপাচার্য হিসেবে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের যোগদানের চিঠি (জয়েনিং লেটার)-সহ অন্যান্য স্মৃতিবিজড়িত বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশেষভাবে সংরক্ষণের চিন্তাভাবনা চলছে।

অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বৈঠক করেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। সেখানে মূলত শিক্ষক ঘাটতি বা অপ্রতুলতা এবং পরিকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন শিক্ষকরা। সব কথা শোনার পর মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন— শিক্ষক, অধ্যাপক ও ছাত্রছাত্রীদের ঠিক কী কী সমস্যা রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতির জন্য কী প্রয়োজন, তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে জমা দিতে। সূত্রের খবর, উপাচার্য খুব শিগগিরই সেই তালিকা তৈরি করে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এই সমস্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।