আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তিলোত্তমায় বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মহল। গত ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে 'সেকুলার মিশন' নামক একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও সাহিত্য সভায় যোগ দেন তিনি। লাল পাড় সাদা শাড়ি ও চোখের সানগ্লাসে চিরচেনা বাঙালিয়ানা লুকে শুক্রবার নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, "আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম"।

আজ বুধবার ফিরে যাওয়ার সময়, বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লেখিকা। তিনি জানান, জন্মভূমি বাংলাদেশে ফিরতে চাইলেও সে দেশের সরকার তাঁকে ফেরাতে রাজি নয় এবং পাসপোর্টের রিনিউয়ালও আটকে রয়েছে। ফলে আপাতত ভারতেই স্থায়ীভাবে থাকবেন তিনি। কলকাতা তাঁর অত্যন্ত প্রিয় শহর উল্লেখ করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মেলার কারণেই দীর্ঘদিন পর এই শহরে পা রাখা সম্ভব হয়েছে। অক্টোবর মাসের বইমেলা ও সাহিত্য উৎসবে আবারও কলকাতায় আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তসলিমা।

শহরে এসে অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে লেখিকা ১২ বছর আগের এক তিক্ত স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করান, তাঁর রচিত চিত্রনাট্য অবলম্বনে তৈরি মেগাসিরিয়াল ‘দুঃসহবাস’-এর হোর্ডিং একসময় কীভাবে রাজনৈতিক চাপের মুখে শহর থেকে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তার সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই শহরের বুকেই তাঁর আগমন উপলক্ষ্যে লাগান ব্যানারে হাত দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে বাকস্বাধীনতার জয় হিসেবেই দেখছেন তিনি।

বামফ্রন্ট কিংবা পরবর্তী তৃণমূল আমলেও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যে শহরে প্রবেশাধিকার মেলেনি, রাজাপরিবর্তনের পর সেই শহরে পা রাখা নিয়ে সরকারের ভূমিকা ও রাজনৈতিক আবহ নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। তবে যাবতীয় বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করায় রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন লেখিকা এবং 'সেকুলার মিশন'-এর সভাপতি ওসমান গণি মল্লিককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই উদ্যোগের জন্য।