আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা সংলগ্ন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায় এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু। মৃত্যু ঘিরে চরম চাঞ্চল্য। মদ্যপ অবস্থায় প্রতিবেশীর সঙ্গে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বছর ৪৩ এর কৃষ্ণ কবিরাজ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের অভিযোগ- মদ খাওয়ানোর নাম করে তাঁকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি ঘটে গত পরশু রবিবার রাত বারোটা নাগাদ। মৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণ কবিরাজ (৪৩)। তাঁর বাবা শ্যাম কবিরাজ। তিনি নিউটাউন থানার জগতপুর প্রমোদগড় এলাকার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাত প্রায় আটটা নাগাদ প্রতিবেশী সঞ্জয় কৃষ্ণকে খাওয়া-দাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। সঞ্জয় পেশায় ট্যাক্সিচালক। অভিযোগ, মূলত মদ্যপানের জন্যই তাঁকে ডাকা হয়।

এরপর রাত বারোটা নাগাদ একটি গাড়িতে করে কৃষ্ণকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। জানা গিয়েছে, সেই সময় তিনি অচেতন ছিলেন এবং বারবার বমি করছিলেন। কৃষ্ণের ছোট বোনের অভিযোগ, গাড়ি থেকে নামানোর সময় তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বেরোচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, ওই অবস্থাতেই অভিযুক্ত সঞ্জয় আচমকা ফেসবুক পেজে লাইভে এসে নিজের সাফাই দিতে শুরু করেন। পরিবারের বক্তব্য, লাইভে সঞ্জয় বলতে থাকেন যে, তিনি কৃষ্ণের সঙ্গে ঘুরতে ও খেতে গিয়েছিলেন, কিন্তু উল্টে ‘তিনিই ফেঁসে গেছেন’। এমনকী কৃষ্ণ মারা গিয়েছেন বলেও লাইভে মন্তব্য করেন। আতঙ্ক থেকেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টায় ফেসবুক লাইভ করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সঞ্জয় ডিলিট করে দিয়েছেন, জানিয়েছে তাঁর ছোট বোন। পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার ছোট মেয়ে দেখতে পায়। পরে পিসিকে জানায় তার বাবাকে কেউ নিয়ে আসছে। কৃষ্ণের পরিবারে তাঁর বাবা, তাঁর দুই মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, ছোট মেয়ের বয়স ১৮। সে মানসিক ভারসাম্যহীন। কৃষ্ণের বউ মারা গিয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। 

এরপর দ্রুত কৃষ্ণকে আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সোমবার ভোররাতে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর নিউটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার, সরাসরি হত্যার অভিযোগ তোলা হয় সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে।

পরিবার আরও জানিয়েছে, কৃষ্ণের নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলেও অভিযুক্ত সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর আগে তেমন কোনও ঘনিষ্ঠতা বা বন্ধুত্ব ছিল না। কখনও তাঁর সঙ্গে মদ খেতেও যাননি। তাই হঠাৎ করে ওইদিন আমন্ত্রণ পাওয়াটাই সন্দেহজনক বলে দাবি তাঁদের। কৃষ্ণ পেশায় একটি হ্যান্ড গ্লাভস কারখানায় কাজ করতেন। এলাকায় পরিচিত ও জনপ্রিয় ছিলেন বলেও জানিয়েছে পরিবার। কোনও শত্রুও ছিল না তার বলে দাবি পরিবারের। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী কৃষ্ণের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর। দেহে কোনও বিষক্রিয়া হয়েছে কি না বা বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না- সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালীন সমস্ত দিক বিবেচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।

ফেসবুক লাইভে ‘সাফাই’ আর তার পরেই মৃত্যু- এই ঘটনায় নিউটাউন জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। এখন সকলের নজর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের দিকেই।