রিয়া পাত্র
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিধানসভা কিংবা লোকসভা সর্বত্রই তৃণমূলের বিধায়ক এবং সাংসদরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
বিশেষ করে রাজ্য বিধানসভায় ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা মেনে নিয়ে বিদ্রোহী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন ফিরহাদ, অনুব্রত, অরূপ, চন্দ্রিমার মতো নেতৃত্বরা।
তাঁরা সকলেই মঙ্গলবার মেয়ো রোডে ঋতব্রত শিবিরের ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ঋতব্রত শিবিরই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে এসেছে।
কিন্তু মঙ্গলবার আসল তৃণমূল কারা তা কর্মীদের বুঝিয়ে দিলেন মমতা। বিজেপিকে তো আক্রমণ করলেনই, ছাড়লেন না ঋতব্রত শিবিরের নেতাদেরও। শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে ঋতব্রত তৃণমূলকে আক্রমণ করে মমতা বললেন, ‘আপনাদের আর প্রয়োজন নেই। ধনে-মানে-প্রাণে ভাল থাকুন। নতুনদের নিয়ে নতুন করে লড়াই হবে। কাউকে যদি গ্রেপ্তারও করা হয়, ভয় পাবেন না। কিছুদিন না হয় জেলে থাকবেন। বিজেপির ভাত খাওয়ার থেকে জেলের ভাত খাওয়া ভাল।’
এতদিন ভাষণের শেষে মমতার মুখে শোনা যেত, ‘তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ।’ মঙ্গলবার সভার শেষে তৃণমূলনেত্রী বললেন, ‘আসল তৃণমূল জিন্দাবাদ।’ কর্মীদের সাফ বুঝিয়ে দিলেন যে আসল তৃণমূল কারা।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ‘এবার জেলায় জেলায় বেরোব। আটকানোর ক্ষমতা কত আছে দেখতে চাই।’
মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। তিনি দাবি করেন, সমাবেশ বানচাল করতে আগের রাত থেকেই পরিকল্পিতভাবে নানা বাধা তৈরি করা হয়েছিল।
একইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক রাজনৈতিক বার্তাও দেন তিনি। মমতার অভিযোগ, ‘রাত ১০টার সময় মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়। মাইকের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
তারপর আবার গভীর রাতে হামলা চালিয়ে মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়। বিজেপি এখন ‘তারকাটা পার্টি’।’ তিনি আরও দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাতভর হয়রানি করা হয়েছে।
‘ওদের লক্ষ্য ছিল রাত দুটো থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমাদের জ্বালানো হয়েছে। আমরা জানি কার নির্দেশে এসব হয়েছে। তবে এর জন্য পুলিশকে দোষ দেব না,’ বলেন তৃণমূল নেত্রী।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতার মন্তব্য, ‘এখন চলছে ‘লবডঙ্কার সরকার’। দিল্লি থেকে কলকাতা— সর্বত্র মানুষ বিজেপির বিদায়যাত্রা দেখেছে।’ মমতার অভিযোগ, কোলাঘাট, বর্ধমান ও বীরভূম-সহ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে বাস আটকে ছেলে-মেয়েদের মারধর করা হয়েছে। খবর ছিল, সকালে কাউকে বেরোতে দেওয়া হবে না। আমাকেও আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল। তবে আমার সবসময় প্ল্যান বি, প্ল্যান সি থাকে।’
সমাবেশে আসা কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘সবাইকে থাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি, ট্রেনের টিকিট বা বাসেরও ব্যবস্থা করতে পারিনি। তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু যাঁরা এসেছেন, আপনারাই আমার সোনার খনি, নয়নের মণি।’
দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নকল বেড়াল তপস্বী হয় না। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে থাকার বদলে সরাসরি বিজেপিতে চলে যান। যারা চলে গিয়েছে, তাদের একজনকেও আর দলে ফেরত নেওয়া হবে না। আমরা বেঁচে গেছি, কারণ চোরেরা বিজেপিতে চলে গিয়েছে।’
















