আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা ১৫ বছর গিলোটিনের মাধ্যমে অনুমোদনের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ফের পৃথকভাবে আলোচনায় আসছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট। বুধবার বাজেট অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই দফতরের বাজেট পেশ করবেন। ২০১১ সালের পর এই প্রথম রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে চলেছে বিধানসভায়।

বিধানসভা সূত্রের খবর, দিনের প্রথমার্ধে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট পেশের পর তার ওপর বিস্তারিত আলোচনা হবে। আলোচনায় অংশ নেবেন বিভিন্ন দলের বিধায়করা। বাজেট বিতর্কের শেষে সদস্যদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে বিদ্যুৎ দফতরের বাজেট নিয়েও পৃথক আলোচনা হবে। বিদ্যুৎ দফতরও মুখ্যমন্ত্রীর অধীন থাকায় সেই আলোচনায়ও তিনি বক্তব্য রাখবেন।

বিধানসভার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট পৃথকভাবে পেশ করেছিলেন। এরপর ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনও বছরই এই দফতরের বাজেট নিয়ে পৃথক আলোচনা হয়নি। প্রতি বছরই তা গিলোটিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জবাবদিহি এড়াতেই স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটকে আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছিল।

২০২৬ সালে সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকার বাজেট প্রক্রিয়ায় পুরনো সংসদীয় রীতি পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট পৃথকভাবে আলোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, স্বরাষ্ট্র দফতর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন, কারা, সিভিল ডিফেন্স, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির দায়িত্বে রয়েছে। ফলে এই দফতরের বাজেট নিয়ে বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ আলোচনা কেবল আর্থিক বরাদ্দের বিষয় নয়, প্রশাসনিক জবাবদিহি, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করারও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ১৫ বছর পর সেই প্রক্রিয়া ফের চালু হওয়ায় এবারের বাজেট অধিবেশন প্রশাসনিক ও সংসদীয়—দুই দিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।