অনুমতি মিলল না অভিষেকের কপ্টারে , হেমন্ত সোরেনের উড়ানে বীরভূম গেলেন সাংসদ

সভার আগে সমস্যা, কপ্টার-অনুমতি মিলছিল না অভিষেকের। ছবি: ফেসবুক।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাসভর ঘুরবেন রাজ্য জুড়ে। ২ জানুয়ারি থেকে রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে সভা শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। ৬ জানুয়ারি তাঁর সভা করার কথা বীরভূমের রামপুরহাটে। তারপরেই দেখা করার কথা সোনালি বিবি এবং তাঁর নবজাতকের সঙ্গে।

 

 সময় মতো মঙ্গলবার সকালে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে পৌঁছেও যান অভিষেক। তবেপ্রাথমিকভাবে জানা যায়, অনুমতি মেলেনি কপ্টারের। উড়ানের অনুমতি দেয়নি ডিজিসিএ। অর্থাৎ কপ্টারের অনুমতি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে, আপাতত রওনা দিতে পারেননি অভিষেক। অপেক্ষা করছেন ফ্লাইং ক্লাবেই। প্রথমে জানা যায়, একান্ত অনুমতি না মিললে, সড়ক পথেও যেতে পারেন তিনি। তবে, ঘণ্টাখানেক পরে, কপ্টার উড়ানে অনুমতি মেলে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সূত্রের খবর, অনুমতি মেলেনি অভিষেকের কপ্টারের। পরিস্থিতি বিচারে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কপ্টার দু'দিনের জন্য 'ডিহায়ার' করে, রওনা দিয়েছেন অভিষেক। দেরি হওয়ায়, সূচিতে বদল হয়েছে। মন্দিরে যাওয়ার বদলে, সরাসরি সভায় পৌঁছেছেন তিনি। ঝাড়খণ্ড থেকে কপ্টার আসে বেহালায়, সেখান থেকেই বীরভূম গিয়েছেন সাংসদ। 

 

অন্যদিকে অনুমতি না মেলায় গোটা ঘটনায় তৃণমূলের অভিযোগ, ভয় পাচ্ছে বিজেপি। শাসক দলের অভিযোগ, আবার জিতবে বাংলা প্রচারের ঝড়ে, ভয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই কারণেই ডিজিসিএ কর্মকর্তাদের দিয়ে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল সূত্রে খবর ছিল, পরিস্থিতি বিচারে, প্রয়োজনে মঙ্গলবার রাতে তারাপীঠেই থাকবেন অভিষেক। 

 

মঙ্গলবার, নিজের বীরভূম সফরের মাঝেই সোনালির সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক পোস্ট করে লেখেন-'বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে সোনালি খাতুন একটি সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জেনে আমি গআনন্দিত। তাঁর উপর যে অবিচার করা হয়েছিল সেই প্রেক্ষিতে এই আনন্দ আরও বেশি।' নিজের পোস্টেই অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্র সরকার সোনালিকে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে জোর করে সে দেশে পাঠিয়েছিল।

 

সোনালির পরিস্থিতি উল্লেখ করে অভিষেক লিখেছেন, 'এটি মানবতার জয়। আগামিকাল, বীরভূম সফরের সময়, আমি ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে সুনালি এবং তার নবজাতকের প্রতি আমার শুভকামনা জানাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করব। আমার প্রার্থনা তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকবে।' 

এর আগে, ডিসেম্বরে কালীঘাটে আসার কথা ছিল সোনালি খাতুনের। কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাতের। তবে বদল হয় সিদ্ধান্তের। সাক্ষাতের আগেই জানা যায়, সোনালির শারীরিক পরিস্থিতি বিচারেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানিয়েছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা সোনালির এই সময়ে এতটা পথ যাতায়াত উচিৎ নয়। তাই তাঁকে এতটা রাস্তা যাতায়াত না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। সকল চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সোনালির সন্তান জন্মের পর দেখা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। সোনালির সন্তান জন্মের পরেই, দেখা করার দিন জানিয়ে দিলেন অভিষেক।