গোপাল সাহা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট করে ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ নিশ্চিত করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। শনিবার এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো বিস্ফোরক সমস্ত তথ্য তুলে ধরলেন।
তিনি বলেন, সাহেবগঞ্জ থেকেই হানিমকে ট্রাক করা হয়েছে। তার সঙ্গেই রানা, হুসেল, আবিদ জেঠ কয়েকটি হ্যান্ডেলের সঙ্গে যোগাযোগ চলছিল। এরা সকলেই পাকিস্তান থেকে ওপারেটেড।
কমিউনিকেশন করছিল শেহজাদ ভাট্টি গ্যাঙ্গ। হামিদ মণ্ডলকে এঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করার চেষ্টা ছিল। ওঁনার মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে বলা হয়েছিল। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল খবর দেওয়ার জন্য। দিল্লিতে যন্ত্রর মন্তরে পুলিশ সেজে গিয়ে নাশকতার ছক ছিল সেই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, হামিরের বাবা ট্রেলারের কাজ করে। ওঁরা একটা সিকিউর জায়গা খুঁজতে গিয়েছিল। অর্পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্পিতা এখানে হামিমের সঙ্গে দেখা করতে আসতো। বাকি কি কি টার্গেট আছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ দেখা হচ্ছে।
এদিন এসটিএফের আইজি আরও যোগ করেন, ১৫ অগস্ট নাশকতা কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিম আরও নেটওয়ার্ক স্প্রেড করেছে। তাঁরা এখন পলাতক আমরা খুঁজছি। এরা সকলেই আইএসআই-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করত। অর্পিতাও সেই দলে ছিল। শেহজাদ ভাট্টি গ্যাঙ্গ এর সঙ্গে আইএসআই যোগাযোগ মিলেছে। অর্পিতা ও হামিমের সঙ্গে আরও যাদের যোগাযোগ তাঁদের খোঁজ চলছে।
এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, হামিমের টার্গেটে ছিলেন হাওড়ার উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তাঁর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপে’র মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে, অপহরণ করে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা। এই সমস্ত তথ্যই হামিমকে জেরা করে পেয়েছেন বলে দাবি এসটিএফ আইজি গৌরব শর্মার।
তবে এখনও আরও বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি। হামিমের বান্ধবী ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকারও গ্রেপ্তার হয়েছে। তার সঙ্গে পাক হ্যান্ডলারদের যোগ ছিল। কিন্তু বাংলাজুড়ে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তারে হামিম-অর্পিতার সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিল? ঠিক কোন কোন নাশকতার ছক ছিল? এদের আর্থিক উৎস কী? এসবের খোঁজে ম্যারাথন জেরা চলছে হামিম-অর্পিতাকে।
















