আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রবল শীতে কাঁপছে কলকাতা। তাপমাত্রা মঙ্গলবার ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে গিয়েছিল। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস আরও কয়েকদিন ঝোড়ো ব্যাটিং চালাবে শীত। এই প্রবল ঠান্ডায় গত ১৫ দিন ধরে আলিপুর চিড়িয়াখানায় জলের মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি পুরুষ জলহস্তী। হাজারও চেষ্টা করেও জলহস্তীটিকে তার ডেরায় ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এবং পশুচিকিৎসকরা।

আজকাল ডট ইন-এর তরফ থেকে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। পুরুষ জলহস্তীটি বেশ কিছুদিন ধরেই কিছু খাচ্ছে না। প্রাণীটিকে তার ডেরাতেও ফেরানো যাচ্ছে না। প্রথম দিকে কারণ না বোঝা গেলেও পরে পশুচিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে জলহস্তীটি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। জলের মধ্যেই সেটির চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানার তরফ থেকে জানা গিয়েছে, চিড়িয়াখানার অন্য সব প্রাণীর মতোই জলহস্তীটিও দিনের বেলায় তার আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে আসে এবং সারাদিন জলে ডুবে থাকে। সন্ধ্যায় এটি আবার আশ্রয়স্থলে ফিরে যায়। তবে, বড়দিনের আগে থেকেই এটি জলের মধ্যে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলহস্তীর ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সূর্যের তাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য শরীর ঠান্ডা রাখতে তাদের জলের প্রয়োজন হয়। এই কারণেই চিড়িয়াখানাগুলি এমনভাবে নকশা করা হয় যাতে তাদের খাঁচায় জলাশয় থাকে।

প্রাথমিকভাবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করেছিল যে প্রাণীটির পায়ে আঘাত লেগেছে এবং সেই কারণে এটি তার খাঁচা থেকে বের হতে পারছিল না। চিড়িয়াখানার পশুচিকিৎসকরা প্রাণীটির রোগ নির্ণয়ের জন্য খাঁচার জল আংশিকভাবে নিষ্কাশন করেন। কিন্তু এতে প্রাণীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, ফলে তারা আবার জলাশয়টি জলে পূর্ণ করতে বাধ্য হন। দীর্ঘ ক্ষণ জলে থাকার ফলে জলহস্তীর শরীরে যদি কোনও ক্ষত থাকে তাহলে তা পচন ধরার সম্ভাবনা থাকে। অবলা প্রাণীটির কী সমস্যা রয়েছে তা এখনও ধরা পড়েনি। তাই জলের মধ্যেই সেটির চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। চিকিৎসকদের অনুমান প্রাণীটি স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর ফলে সেটির নিজের ভারী ওজনকে জল থেকে টেনে তোলা বেশ কঠিন।

বর্তমানে আলিপুর চিড়িয়াখানায় দুটি জলহস্তী রয়েছে, যার মধ্যে একটি বয়স্ক স্ত্রী জলহস্তী। ২০২৪ সালে একটি ৩৫ বছর বয়সী স্ত্রী জলহস্তী দাঁতের অস্ত্রোপচারের সময় মারা যায়। তার নীচের চোয়ালের স্ব-দন্তগুলি অতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিল। যার ফলে  নাকের কাছের চামড়া ভেদ করে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। প্রাণীটি তার দাঁত নাড়াতে পারছিল না এবং মুখ খুললেই রক্ত ​​ঝরত। ক্ষতগুলি মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। তৎকালীন চিড়িয়াখানার পরিচালক শুভঙ্কর সেনগুপ্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অস্ত্রোপচারের সময় প্রাণীটি মারা যায়।

তার মৃত্যুর এক মাস পর, প্রজননের জন্য নন্দনকানন চিড়িয়াখানা থেকে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী জলহস্তী আনা হয়। তবে, আলিপুর চিড়িয়াখানায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই স্ত্রী জলহস্তীটি মারা যায়।