আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টি এবং এসএফআইয়ের মিছিলে চরম অশান্তি। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হল বোতল, জুতো।

এমনকী, রক্ষা পেলেন না মিছিল কভার করতে আসা সাংবাদিকরাও। মারের চোটে একাধিক সাংবাদিককে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে। এই মিছিলকে ঘিরে অশান্তি এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের পর তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের নেপথ্যে দেশবিরোধী শক্তি, উগ্র বামপন্থী এবং তথাকথিত ‘আরবান নকশাল’-দের ভূমিকার অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের মন্ত্রীর দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাংশের স্লোগান ও বক্তব্য অতীতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে মিল রয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, ‘একটা চেইন আছে ভারতকে ভাগ করার, ভারতের বিরোধিতা করার এই স্লোগান বারবার চলে আসে। নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে উগ্রপন্থীদের টাইট করেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের টাইট করেছেন তারা এখন শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এই রকম কোনও না কোনও ইস্যুকে সামনে রেখে মাঝে মাঝে উৎপাত করে।’

সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে দিলীপের অভিযোগ, ‘যারা সংবাদমাধ্যম, সাধারণ মানুষ এবং পুলিশকে আক্রমণ করেছে, তাদের কোনও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিকভাবে কোনও লাভ হবে না, বরং মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হবেন।’

এমনকী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও টেনে এনেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, ‘যাদবপুর নামে একটা আলাদা আইল্যান্ড আছে। যেখানে ভারত বিরোধী স্লোগান দেয়। ভারতকে টুকরে হোঙ্গে, আজাদি, ইনশাআল্লাহ এই সমস্ত স্লোগান আমরা দেখেছি। কিন্তু তাদের অস্তিত্বটা কোথায়! রাজনীতিতে কোথাও নেই। বামপন্থী, অতি বামপন্থী কিছু কিছু মানুষ থাকে; কারও বোরে হয়ে তারা কাজ করে। এখানেও তাই হয়েছে। গণতন্ত্রের পরিবেশ আছে তাই লাফালাফি করছে।’

আন্দোলনের সঙ্গে অতি বামপন্থী বা তথাকথিত ‘আরবান নকশাল’-দের যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী দিলীপ বলেন, ‘সবই আছে, রাতারাতি তো বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে এক্সপোজ হয়,হবে। এদের অ্যাক্টিভিটি মিলে যাচ্ছে, এদের স্লোগান মিলে যাচ্ছে। এদের কাজ করার ঢং ঘুরেফিরে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আক্রমণ। বোঝাই যাচ্ছে এরা এদিক ওদিক দুটোই আছে।’