বিভাস ভট্টাচার্য: পায়ে ফুটেছিল খেজুর কাঁটা। বাসা বেঁধে ছিল প্রায় পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছরে সে প্রতিদিন জানান দিয়েছে তার উপস্থিতির কথা। ফলাফল- হাঁটা চলায় সমস্যা এবং সেইসঙ্গে ভয়াবহ যন্ত্রণা। দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলতলির বাসিন্দা বছর বিয়াল্লিশের নন্দরাণী হালদার ধরেই নিয়েছিলেন এই ব্যাথাই হবে বাকি জীবনের সঙ্গী। কিছুতেই কাঁটা তাঁর পা ছেড়ে যেতে চায়নি। অনেক চিকিৎসক ও হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি সুরাহা। অবশেষে বৃহস্পতিবার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে কাঁটার থেকে রেহাই পেলেন তিনি। এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে অস্ত্রোপচার করলেন চিকিৎসকরা। সার্জেন ডাঃ নিলয় নারায়ণ সরকার-এর নেতৃত্বে হল এই অস্ত্রোপচার। কাঁটামুক্ত হয়ে কৃতজ্ঞ নন্দরাণী ধন্যবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসকদের। আপাতত তিনি সুস্থ আছেন বলেই জানা গিয়েছে।
এবিষয়ে ডাঃ নিলয় নারায়ণ জানান, "রোগী জানিয়েছেন পাঁচ বছর আগে জ্বালানীর জন্য কাঠ কুড়ানোর সময় তিনি যখন খেজুর গাছের ডাল ভাঙছিলেন তখন একটি ডাল তাঁর ডান পায়ের উপর ভেঙে পড়েছিল। ডালের কাঁটা ঢুকে যায় পায়ে।" কাঁটা বের করতে এরপর নানারকম ওষুধ খান নন্দরাণী।কিন্তু 'অবাধ্য' কাঁটা কিছুতেই তাঁকে ছেড়ে যেতে রাজি নয়। এলাকায় এবং অন্যান্যদের পরামর্শে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও মেলেনি সুরাহা। অবশেষে মেয়ের জামাইকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। ইউএসজি করে দেখা যায় কাঁটা জায়গা পরিবর্তন করে পৌঁছে গিয়েছে অন্য জায়গায়। চিকিৎসকরা সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার তাঁকে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর পায়ে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়।
ডাঃ নিলয় নারায়ণ বলেন, "একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কাঁটা যে পায়ের ঠিক কোনখানে আছে সেটা খুঁজতেই সময় লেগে গেল এক ঘন্টার কাছাকাছি। ইউএসজি রিপোর্ট অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে কাঁটা খুঁজে বের করা হয়। দেখা যায় কাঁটা ঢুকতে ঢুকতে একেবারে হাড়ের গায়ে মাংশপেশীর গভীরে গিয়ে বিঁধে আছে। চারপাশে পুঁজ জমে আছে। রোগী এখন পুরোপুরি সুস্থ।"
ডাঃ নিলয় নারায়ণকে সহযোগিতা করেছেন ডাঃ ইন্দ্রানী দেবনাথ। এছাড়াও এই অস্ত্রোপচারে অংশগ্রহণ করেন অ্যানেস্থেটিস্ট ডাঃ বি এন দাস, ডাঃ এইচ দত্ত ও ডাঃ এস রহমান। ওটি সিস্টার হিসেবে এদিন এই অস্ত্রোপচারে ছিলেন মন্দিরা নাগ।
&t=2s
হাসপাতালের ডা: শিশির নস্কর জানিয়েছেন, "সরকারি হাসপাতালে আমরা সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে দায়বদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য থাকে যেন একটি রোগীও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন।"
