আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাজের দিনে অফিস ছুটির ব্যস্ত সময়ে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে সিজেপি (CJP) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা। মিছিল আটকানোকে ঘিরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা, হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে বোতল ও জুতো ছোঁড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিড় সামলাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটালে ব্যস্ততম ধর্মতলা এলাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও অন্যায়ের প্রতিবাদে ডাকা এই মিছিলের সহিংস পরিণতি নিয়ে তোপ দেগেছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা বিশিষ্ট রাজনীতিক বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জানান, আন্দোলন ভণ্ডুল করতে ও ছাত্রদের এই ঐতিহাসিক সমাবেশকে কালিমালিপ্ত করতেই ভেতরে বাইরে ‘এজেন্ট প্রোভোকেটর’ বা ‘এপি’ নামানো হয়েছে। তাঁর মতে, পুলিশের ছদ্মবেশে থাকা বা শাসকদলের ইন্ধনপুষ্ট দুষ্কৃতীরাই মিছিলে ঢুকে অশান্তি পাকায়, যাতে পুলিশ লাঠিচার্জের অজুহাত পায়।
আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের কণ্ঠেও। মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিলত্তমার বুকে সুবিচারের দাবিতে এবং ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলনের বার্তা স্পষ্ট হলেও, সমাবেশের সুশৃঙ্খল পরিবেশকে কালিমালিপ্ত করা কখনোই কাম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে গতকাল অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন এগোচ্ছিল, সেখানে হঠাৎ করেই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। জলের বোতল ও জুতো ছোঁড়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এমনকি দায়িত্বপালনকারী সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপরও অতর্কিতে চড়াও হয় কিছু দুষ্কৃতী, যা চরম ধিক্কারজনক।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার সমালোচনা করে সিপিআইএম বিধায়ক বলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন আগ্রাসন বা মারধর কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তবে এই বিশৃঙ্খলার পেছনে আন্দোলনকারীদের ওপর দায় না চাপিয়ে, তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে জমায়েতের আড়ালে বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতী এসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
















