আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের রেশ ছড়ায় কলকাতায়। শুক্রবার শহরের বুকে বাম সংগঠনগুলি মহামিছিলের ডাক দেয়। যুক্ত হয় ককরোচ জনতা পার্টি-সহ বহু সাধারণ পড়ুয়াও। তবে মিছিল কিছুদূর এগনোর পরেই তাল কাটে কার্যত। ধর্মতলায় পৌঁছে রণক্ষেত্রের আকার নেয়। আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশ-সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ চালায়। শুক্রবারেই, আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার বিধানসভায় তিনি এই বিষয়ে বিবৃতি দেন। বিধানসভা থেকে একদিকে যেমন সাংবাদিকদের উপর শারীরিক আক্রমণের নিন্দা করেন, একইসঙ্গে সাফ জানিয়ে দেন সদ্য পাশ হওয়া গুন্ডাদমন আইনের প্রয়োগের বিষয়টিও।
শুরুতেই তিনি বলেন, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল, গণতান্ত্রিক দেশে, যে কেউ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, শান্তিপূর্ণভাবে। নজরদারি ছিল পুলিশের পক্ষ থেকেও। মুখমন্ত্রী জানান, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল, যতক্ষণ না পর্যন্ত সমবেত মিছিল, আন্দোলনকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, পুলিশ বলপ্রয়োগ করবে না।
পুলিশের হিসেব অনুযায়ী, ভিড় ছিল প্রায় ন'হাজার, তেমনটাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গেই জানান, 'পিছন থেকে খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি ইত্যাদি জায়গা থেকে সাপ্লাই করা হয়েছিল।'
বিশৃঙ্খলার বিবিরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিক্ষোভকারীরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি চালাক, বলপ্রয়োগ করুক, কিন্তু পুলিশ সে ফাঁদে পা দেয়নি। সাংবাদিকদের আহত হওয়ার প্রসঙ্গ জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'ইতিমধ্যে সাংবাদিক বন্ধুদের কাছ থেকে, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট সাতটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে বিধানসভা থেকে পাশ হওয়া গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে।' কোন থানায়, কী মামলা দায়ের হয়েছে, তাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানান, 'প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের একজনও ছাত্র নয়, যারা একজনও সেলফ ডিক্লেয়ার ককরোচ পার্টির মেম্বার নয়, যারা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।' পাঁচজনের নাম ঘোষণা করেন, তারপরেই জানান, 'এই পাঁচ গুন্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম, গুন্ডা দমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে একদিন নয়, তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুন্ডাদমন আইন এনেছিলাম।'
















