আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট কাণ্ডের জেরে দিল্লির পর এবার আন্দোলনের আঁচে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতাও। কাজের দিনে অফিস ছুটির সময় ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। সিজেপি (CJP) এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ মিছিল ধর্মতলার মোড়ে পৌঁছাতেই তাদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। আর তাতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে যায় গোটা এলাকায়। প্রতিবাদকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভিড় সামলাতে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দীর্ঘক্ষণ বচসা ও হাতাহাতির জেরে ব্যস্ততম কাজের দিনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা।

আগে থেকেই এই মিছিলের কর্মসূচি নির্ধারিত থাকলেও ডোরিনা ক্রসিংয়ে এসে আন্দোলনের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। অন্যদিকে, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর বিনা পোশাকে লাঠিচার্জ এবং পেলেট বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আগেই শোরগোল পড়েছিল। সেই আবহে কলকাতার এই অশান্তি নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মুখ খুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ফেসবুকে তোপ দেগে তিনি ভেতরের অন্তর্ঘাতের বড় অভিযোগ তোলেন।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে লেখেন, কোনও  শান্তিপূর্ণ ছাত্র জমায়েতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই শাসকদল ও পুলিশের ছদ্মবেশীদের কাজ। তারা বাইরে থেকে ঢিল-পাটকেল ছুড়ে পুলিশকে লাঠি চালানোর অজুহাত বা বাহানা তৈরি করে দেয়। রাজনীতির ভাষায় এদের ‘এজেন্ট প্রোভোকেটর’ বা ‘এপি’ বলা হয়। প্রবীণ এই আইনজীবীর আশঙ্কা, ছাত্রদের এই ঐতিহাসিক সমাবেশকে কালিমালিপ্ত করতে এবং আন্দোলন ভণ্ডুল করে দিতে এমন ‘এপি’দের ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তাই ছাত্র ও যুব নেতৃত্বকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কলকাতার রাজপথে এই বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি আইনি ময়দানেও প্রতিবাদের বড় ঝড় উঠেছে। নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের প্রতিবাদে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের ‘বি’ গেট থেকে আইনজীবীরা এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বেই দলমত নির্বিশেষে বহু আইনজীবী এই মিছিলে পা মেলান। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে সিটি সিভিল কোর্টে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশ থেকে আইনজীবীরা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন, কোনওভাবেই পুলিশি বর্বরতা ও দমনপীড়ন চালিয়ে আমজনতা কিংবা ছাত্রদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। দেশে যেকোনও  মূল্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর একমাত্র গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেই যে ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব, সেই দাবিই অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীরা।