আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর এবার ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কাজে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে এসে ঠিক এই সুরেই তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে বাংলার মহান মনীষী ও বিপ্লবীদের স্মরণ করে এ রাজ্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তুলে ধরেন তিনি।

রাজ্যে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরুতেই বলেন, নির্বাচনে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফ থেকে বাংলার মানুষকে মিষ্টি দই খাইয়ে মুখ মিষ্টি করাতে তিনি এখানে এসেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, শিক্ষা, স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা আধ্যাত্মিকতা—সব দিক থেকেই এক সময় গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল এই বাংলা। ক্ষুদিরাম বসু থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, দেশের জন্য বলিদান দিতে এই মাটি কখনো পিছিয়ে যায়নি। এখান থেকেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বমঞ্চে আন্তর্জাতিক পুরস্কার এনেছেন, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু প্রমাণ করেছেন গাছেরও প্রাণ আছে, আর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন কালজয়ী ‘বন্দে মাতরম’। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, আদর্শহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের শাসনে কবিগুরুর সেই সোনার বাংলা একসময় ধ্বংসের মুখে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছরের কঠিন সংঘর্ষের পর আজ আবার এখানে সোনার বাংলা গড়ার আন্দোলন পুনর্জীবিত হয়েছে এবং রাজ্যে আসল পরিবর্তন এসেছে।

এ দিনটিকে বাংলার কৃষকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও বড় দিন বলে আখ্যা দেন অমিত শাহ। তিনি জানান, এবার বাংলা পেতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদনকারী প্ল্যান্ট এবং খুব দ্রুত এখানে আইসক্রিম প্ল্যান্টও তৈরি করা হবে। পূর্বতন সরকারের মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলে বলা হতো গুজরাটের সংস্থাকে এখানে আসতে দেওয়া হবে না। অথচ আজ সেই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই প্রকল্পের জন্য ৩০ একর জমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে বাংলার পশুপালকরা সরাসরি লাভবান হবেন এবং এখান থেকে তৈরি দই গোটা দেশে সরবরাহ করা হবে।

বিশ্বের এক নম্বর সমবায় হিসেবে আমূলের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আজ আমূলের টার্নওভার ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা। ৩৬ লক্ষ মানুষ মাত্র ১০০ টাকা করে বিনিয়োগ করে এই বিশাল সমবায় গড়ে তুলেছিলেন, যার লভ্যাংশ কোনও  পুঁজিপতি বা শেঠের পকেটে যায় না, সরাসরি পৌঁছায় কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আগামী দিনে সমবায়ের সমস্ত কাজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান। এর পাশাপাশি পরিবহন ক্ষেত্রেও এক নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি। ভারত ট্যাক্সির সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার নয়, চালক নিজেই হবেন গাড়ির মালিক’—এই নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হচ্ছে।

বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই রাজ্যের ওপর গঙ্গা মায়ের আশীর্বাদ রয়েছে। এখানকার উর্বর জমি আর প্রচুর জলসম্পদকে কাজে লাগালে উন্নয়নের সম্ভাবনা অসীম। গত তিন দিন ধরে বাংলায় থাকার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলেছে।

বক্তব্যের শেষে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাজের গতি ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি বলেন, শুভেন্দুর কাজের স্পিডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। একটি ইমেলের জবাবে শুভেন্দু যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে রাজ্য সরকারের এক অফিসারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুভেন্দুর এই গতি ও কর্মক্ষমতার ওপর ভরসা রেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, বাংলাকে আবার নিজের পায়ে দাঁড় করাতে খুব বেশি সময় লাগবে না এবং কবিগুরুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।