আজকাল ওয়েবডেস্ক: বড় পদক্ষেপ নিল অস্ট্রেলিয়ার বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস। ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর জন্য তৈরি বিশেষ এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ ইউএলআর বিমান প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে সফল হয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোয়ান্টাস বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করার পর অবশেষে বাস্তবের পথে এই পদক্ষেপ।
কোয়ান্টাসের পরিকল্পনায় একটি বিমান, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু করে সোজা গিয়ে পৌঁছবে লন্ডন বা নিউ ইয়র্কের মতো শহরে। এই যাত্রাপথের মাঝে যাত্রীকে থামতে হবে না কোথাও। বদলাতে হবে না কোনও বিমান। এই একটি বিমানই এবার পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছনো যাবে একেবারে। বিশ্বের দীর্ঘতম ননস্টপ যাত্রীবাহী এই বিমান বা ফ্লাইট চালুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল কোয়ান্টাস।
সূত্রের খবর, বিমানটি এদিন ফ্রান্সের তুলুজ থেকে উড়েছিল। বিমানটি প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট আকাশে ছিল এবং ছুঁয়েছিল ৪১ হাজার ফুট উচ্চতা। এই সময় বিমানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। যাচাই করে নেওয়া হয় এই বিমান টানা ২২ ঘন্টা আকাশে থাকার জন্য প্রস্তুত কি না। ২২ ঘন্টার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব করতে বিমানে অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাঙ্ক যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিমানের উড়ান পরিসর আরও বেড়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের ফ্লাইটে যাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করতে উন্নত কেবিন বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি এবং নতুন কুলিং সিস্টেমও পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার না থেমে ওড়ার জন্য বিমানটিতে যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ‘রিয়ার সেন্টার ফুয়েল ট্যাঙ্ক’ বা অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবস্থা। এই অতিরিক্ত ট্যাঙ্ক বিমানের পরিসর প্রায় এক হাজার নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে শুধুমাত্র দূরত্ব নয়, দীর্ঘ সময়ের যাত্রায় যাত্রীদের আরামের কথাও ভাবছে সংস্থা। ফলে এই এয়ারবাসে নতুন প্রজন্মের গ্যালি কুলিং সিস্টেম, উন্নত কেবিন, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের নতুন প্রযুক্তি নিয়েও পরীক্ষা চলছে। প্রায় একদিনব্যাপী যাত্রাকে যতটা সম্ভব স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলাই এসব প্রযুক্তির উদ্দেশ্য।
পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই বিমনটিকে কোয়ান্টাসের বাণিজ্যিক চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করা হবে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ১২টি এ৩৫০-১০০০ইউএলআর এবং আরও ১২টি মানক এ৩৫০-১০০০ বিমানের অর্ডার দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এই প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু হয়। এই প্রজেক্ট সানরাইজকে বাণিজ্যিক বিমানগুলির মধ্যে সবচেয়ে সাহসী বিমান হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত না থেমে টানা বিমানযাত্রাকে বিমান-শিল্পের শীর্ষ বিন্দু হিসাবে ধরা হচ্ছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সিডনি থেকে লন্ডনের এই যাত্রা পথটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা এবং একটানা যাত্রীবাহী বিমানসেবা। নিউইয়র্ক থেকে ফুঝৌ পর্যন্ত বিমান যাত্রাপথ এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ পথ। কিন্তু, সিডনি থেকে লন্ডনের এই প্রায় ১৭,০১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ চালু হলে তা নিউইয়র্ক থেকে ফুঝৌ-এর দৈর্ঘ্যকেও ছাপিয়ে যাবে।















