আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, যেকোনও মুহূর্তে বোমা পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই মার্কিন দূতের মুখোমুখি বসতে হয়েছিল তাঁকে।
গত বছর পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় থেকেই আরাগচি ও উইটকফের মধ্যে এই যোগাযোগ শুরু। ওমান, রোম ও জেনেভার পর গত এপ্রিলে ইসলামাবাদ ও মস্কোতেও পাকিস্তানি কর্তাদের মধ্যস্থতায় এই দৌত্য চলে। তবে তেহরানের দাবি, এটি কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছিল না।
সম্প্রতি ‘মেহের নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি স্পষ্ট জানান, মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর ভেনেজুয়েলা যেভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল, ইরান তেমনটা করবে না। চাপ সৃষ্টি করে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ভাঙা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে গত জুন মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন কার্যত ব্যর্থ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। পাল্টা বন্দরগুলিতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে আমেরিকা। মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এর জেরে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অন্দরেও চরম কোণঠাসা বিদেশমন্ত্রী। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় নিহত প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন আরাগচি। তাঁর দিকে পাথর ছোড়া হয় এবং ‘আপসকারী’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
কট্টরপন্থীদের অভিযোগ, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবার সম্মতি ছাড়াই মার্কিন চুক্তি সই করে আরাগচি, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও স্পিকার ঘালিবাফ আসলে গাফিলতিই করেছেন। যদিও স্পিকার ঘালিবাফ এই অভিযোগ উড়িয়ে দাবি করেছেন, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা কোনও আপস নয়, বরং এটি তাঁদের ‘প্রতিরোধ কৌশলেরই’ অংশ।
















