আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টায় খোদ মার্কিন সেনেটই জল ঢেলে দিল বলে ক্ষোভ উগরে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান যখন নতিস্বীকার করে আপসের মুখে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই এমনটা ঘটল।

চার রিপাবলিকান সেনেটরের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মেলানোর তোপ দেগে ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইরানের কাছে ভুল বার্তা পাঠাল। এর ফলে আলোচনার টেবিলে আমেরিকার অবস্থান কিছুটা দুর্বল হলেও, তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

এরই মধ্যে, আগামী শুক্রবার সিয়াটেলে বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্য ইরান ফুটবল দলকে বাড়তি একদিন প্রস্তুতির সুযোগ দিল ওয়াশিংটন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ম্যাচের দু’দিন আগেই ইরানি দলকে আমেরিকায় আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা দিয়ে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমস্ত সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাব পাস করল রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সেনেট। তেহরানের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে সেনেটের এই পদক্ষেপকে প্রথম বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’-এর ওপর ভিত্তি করে আনা এই প্রস্তাবের কার্যকারিতা কতটা, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। ব্লুমবার্গ জানাচ্ছে, এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনও সামরিক পদক্ষেপ করতে পারবে না আমেরিকা।

লিসা মুরকোভস্কি, বিল ক্যাসিডি, সুসান কলিন্স এবং র‍্যান্ড পল- এই চার রিপাবলিকান সেনেটর দলের লাইনের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। উল্টোদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। 

অন্য দিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কট্টর সমর্থক দুই রিপাবলিকান সেনেটর মিচ ম্যাককনেল এবং ডেভিড ম্যাককরমিক এই ভোটাভুটিতে অংশই নেননি।

দুই দেশের শান্তি আলোচনা যখন এগোচ্ছে, তখন একটি বড় জট কাটাতে আসরে নামলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের বাজেয়াপ্ত অ্যাকাউন্ট থেকে যে অর্থই ছাড়া হোক না কেন, তা তেহরান কেবল আমেরিকা থেকে খাবার এবং ওষুধ কেনার কাজেই ব্যবহার করতে পারবে। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লেখেন, আমেরিকার ট্রেজারি যে অর্থ ছাড়ছে, তা আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে থাকবে। সেই টাকা দিয়ে শুধু আমেরিকা থেকেই খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনা যাবে।

যদিও ট্রাম্পের এই দাবি মানেনি ইরান। জানা গিয়েছে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাফ জানিয়েছেন, এই টাকা তেহরান নিজের সুবিধামতো যে কোনও উপায়ে ব্যবহার করতে পারবে। পাশপাশি কেবল মার্কিন পণ্য কেনার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

এই টানাপড়েনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কিছুটা কমেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলি আবার স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত শুরু করায় জ্বালানি সরবরাহের সঙ্কট কাটার ইঙ্গিত মিলছে।