আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের সর্বোচ্চ আয়ু কত হতে পারে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বহু বছর ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এবার সেই প্রশ্নেরই এক নতুন উত্তর সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মানুষের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য আয়ু হতে পারে ১৫৬ বছর। তবে এই সীমা অতিক্রম করতে গেলে বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানকে এখনও অনেক বড় বাধা পেরোতে হবে।
প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানবদেহে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কোষগত ক্ষতি জমতে থাকে। এর অনেকটাই ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে কমানো সম্ভব হলেও, সোমাটিক মিউটেশন নামে পরিচিত ডিএনএ-র স্থায়ী পরিবর্তনই মানুষের আয়ুর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।
গবেষকরা একটি বিশেষ গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে দেখেছেন, যদি বয়স বৃদ্ধির প্রায় সব প্রক্রিয়াকেই থামিয়ে দেওয়া যায় বা উল্টে দেওয়া সম্ভব হয়, তবুও সোমাটিক মিউটেশন থেকে সৃষ্ট ক্ষতি রয়ে যাবে। সেই কারণেই মানুষের গড় সর্বোচ্চ আয়ু ১৪৬ থেকে ১৯৪ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিস্থিতিতে তাত্ত্বিক গড় আয়ু প্রায় ১৫৬ বছর।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্রের কোষ এই সীমার প্রধান কারণ। শরীরের অনেক অঙ্গ, যেমন লিভার, নিয়মিত নতুন কোষ তৈরি করতে পারে। ফলে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পরিবর্তে নতুন কোষ জন্ম নেয়। কিন্তু মস্তিষ্কের নিউরন এবং হৃদ্যন্ত্রের কার্ডিওমায়োসাইট প্রায় পুনর্গঠিত হয় না। ফলে এই কোষগুলিতে জমতে থাকা জিনগত ক্ষতি ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে যায় এবং একসময় দেহের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
গবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা একটি কাল্পনিক "নন-এজিং হিউম্যান" বা এমন একজন মানুষের মডেল তৈরি করেছিলেন, যার ক্ষেত্রে বয়স বাড়া মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় না। সেই পরিস্থিতিতে গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী মানুষের মধ্যম আয়ু প্রায় ১,৭৫৯ বছর পর্যন্ত হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে সোমাটিক মিউটেশনের প্রভাব যুক্ত করার পর সেই সম্ভাব্য আয়ু দ্রুত কমে ১৫৬ বছরে নেমে আসে।
গবেষকদের দাবি, ভবিষ্যতে বয়সজনিত আরও বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়াকে এই মডেলে যুক্ত করে গবেষণা আরও বিস্তৃত করা হবে। তাঁদের মতে, দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করলেও, মানুষের স্বাভাবিক আয়ুর চূড়ান্ত সীমা বাড়াতে হলে জিনগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি আবিষ্কার করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই গবেষণা ভবিষ্যতের অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসা ও মানবদেহের বার্ধক্য নিয়ে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
















