আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয়দের পকেটে বড় টান। মার্কিন নাগরিক হওয়ার আবেদনের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই নিয়ম চালু হলে গ্রিন কার্ড পাওয়ার খরচও অনেক বেড়ে যাবে। ফলে বিপাকে পড়বেন সে দেশে থাকা ভারতীয়রা।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদনপত্র বা ‘ফর্ম এন-৪০০’ কাগজে লিখে জমা দিলে এখন থেকে ৭৬০ ডলারের বদলে ১,৩৩০ ডলার লাগবে। অর্থাৎ খরচ বাড়ছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। আর যদি কেউ অনলাইনে আবেদন করেন, তবে ৭১০ ডলারের জায়গায় খরচ পড়বে ১,২৮০ ডলার- যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
যাঁদের পারিবারিক আয় কম, তাঁদের জন্য অবশ্য ফি বাড়ানো হচ্ছে না। আগের মতোই ৩৮০ ডলার রাখা হচ্ছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি আবেদন ফি পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার যে ব্যবস্থা এত দিন ছিল, তা তুলে দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে নতুন নিয়মে।
যদি এই নিয়ম শেষ পর্যন্ত পাশ হয়ে যায়, তবে আমেরিকায় পাকাপাকিভাবে থাকার স্বপ্ন দেখা লক্ষ লক্ষ মানুষের খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। তবে এখনই এই নিয়ম চালু হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য অন্তত ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে, তার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
আমেরিকায় প্রতি বছর যাঁরা গ্রিন কার্ড পান, তাঁদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আমেরিকায় প্রায় ৬৭ লক্ষ ভারতীয় রয়েছেন। এর মধ্যে একটা বড় অংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং বাকিরা এনআরআই।
আমেরিকার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৬৬,৮০০ জন ভারতীয় গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এইচ-১বি ভিসা নিয়ে সাম্প্রতিক ডামাডোলের বাজারে এই সংখ্যাটা বড় মনে হলেও, আসল সত্যিটা হলো- ২০২২ সালের তুলনায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার এই হার প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ২০২২ সালে যেখানে ১ লক্ষ ২৭ হাজারেরও বেশি ভারতীয় গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন, ২০২৪ সালে তা কমে মাত্র ৬৬,৮০০-তে ঠেকেছে।
এই পরিস্থিতিতে আবেদনের খরচ যদি আরও বাড়ে, তবে আমেরিকায় থাকার জন্য ভারতীয়দের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।
এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এইচ-১বি ভিসার ফি গড়ে ২,০০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ১ লক্ষ ডলার করে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংস্থাগুলি যাতে বাইরে থেকে কর্মী না এনে দেশের মানুষকে চাকরি দেয়- অর্থাৎ ট্রাম্পের সেই চেনা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি সফল করতেই এই বিপুল ফি চাপানো হয়েছিল।
অন্যদিকে বোস্টনের একটি আদালত ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ বলে বাতিল করে দেয়। আদালতের সেই রায়ে সে যাত্রায় স্বস্তি পেয়েছিলেন বহু ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।















