আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধবিরতির পরেও অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। লেবাননে ফের হামলা ইজরায়েলের। তবে এবার আতঙ্ক ছড়াল স্রেফ নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ঘিরে। যা দেখতে হুবহু ফুটবলের মতো। এই ফুটবলের আকারের ক্লাস্টার বোমা নজরে পড়তেই ঘুম উড়ল লেবাননের শিশুদের। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ শনিবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননে হামলা করেছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। এই হামলায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। লেবাননের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতভর দক্ষিণ লেবাননের বহু জায়গায় হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। কোথাও ড্রোন হামলা, কোথাও আবার এয়ার স্ট্রাইক। 

 

ইজরায়েলের হামলায় লেবাননের একাধিক আবাসন, বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে দাবি করা হয়েছিল, গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ ইজরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে। উভয়পক্ষই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এরপরই চলল এই হামলা!

 

ক্লাস্টার বোমা ঘিরে বিতর্ক বরাবরই তুঙ্গে। কারণ এই অস্ত্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও ভয়ানক বলে মনে করে ওয়াকিবহাল মহল। নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় নয়, একসঙ্গে একাধিক জায়গায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে এই ক্লাস্টার বোমা ছোঁড়া হয়। যার জেরে প্রাণহানি ও ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি হয়। 

 

একগুচ্ছ ছোট ছোট বোমা থাকে একটি ক্লাস্টার বোমার মধ্যে। উৎক্ষেপণের পরেই শূন্যে খুলে যায় এর মুখ। তখনই বড় বোমার ভেতর থেকে ছোট ছোট বোমাগুলি বেরিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হয়। ক্লাস্টার বোমার মধ্যে থাকা ছোটো বোমাগুলি মাটিতে আছড়ে পড়লেই বিস্ফোরণ ঘটায় না। কোনও কিছুর সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরণ ঘটে। জনবহুল এলাকায় পড়লেই বিস্ফোরণ ঘটে সঙ্গে সঙ্গে। কিছুর সংস্পর্শে না এলে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এই বোমা সক্রিয় থেকে যেতে পারে।

 

লেবাননের এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননে এই ফুটবলের আকারের মতো ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে ইজরায়েল। ফুটবল ভেবে কোনও শিশু এটি ছুঁলেই ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে গোটা শহরের। হাজার হাজার প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।