আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধ শততম দিনে পা রাখতেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কূটনৈতিক তৎপরতা চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল পাকিস্তান। মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের এই বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা এড়াতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির জন্য একটি 'বিশেষ চিঠি' নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশের সেনাপ্রধানের পাঠানো এই চিঠিতে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তেহরানে পৌঁছেই মহসিন নকভি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দর মোমেনির সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এই কূটনৈতিক মিশনটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন পারস্য উপসাগরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার আশঙ্কায় তারা ইরানের দুটি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। এর আগে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ধেয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে মার্কিন বাহিনী। পাল্টাপাল্টি জবাবে ইরান সীমান্তের কৌশলগত রাডার সাইটগুলোতে মার্কিন হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতসহ আরব বিশ্বের একাধিক দেশ এই যুদ্ধ পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মারাত্মক উসকানি বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে পর্দার আড়ালে যুদ্ধ থামানোর আলোচনা চললেও তা বর্তমানে এক চরম অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক যুদ্ধ ঘোষণার হুমকির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের আশার কথাও শোনাচ্ছেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনা এখন সম্পূর্ণ স্থবির এবং ট্রাম্পকেই এই জটিলতা কাটাতে হবে। বিশেষ করে আমেরিকার হাতে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও তা স্থায়ী রূপ পায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই বিশেষ চিঠি ও নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে শেষ পর্যন্ত কোনও জট খুলতে পারে কিনা, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।















