আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রবল জল সঙ্কটে পাকিস্তান। বাড়ছে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিরতাও। হতাশ ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে রেহাইয়ের লক্ষ্যে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সীমান্তে ফের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির উস্কানি দিচ্ছেন শরিফ সরকারের এই মন্ত্রী। যদিও যে সঙ্কটের জন্য বিশেষজ্ঞরা পাক সরকারের চরম অব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন।

জল-কে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার একটি অংশ হিসাবে মনে করেন আসিফ। 'এআরওয়াই নিউজ'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, "যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং জল ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা নিশ্চিতভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াব।" তিনি আরও দাবি করেন যে, পাকিস্তান যদি এমন কোনও প্রমাণ পায় যে- ভারত জল সরবরাহ ব্যাহত করার জন্য "উদ্বেগজনক গতিতে" পদক্ষেপ করছে, তবে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর নয়াদিল্লি ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রেখেছে। ভারত তার অবস্থানে অটল। দিল্লির ঘোষণা, যতক্ষণ না পাকিস্তান আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য বিশ্বাসযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী ঐতিহাসিকভাবেই পাকিস্তান সিন্ধু অববাহিকার জলের ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহারের আঘিকারী। কিন্তু এই সম্পদ কাজে লাগানোয় দেশটির বর্তমান ব্যর্থতার কারণে তাদের কৃষিজমিগুলো আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এক্ষেত্রে দোষ ভারতের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন আসিফ। তাঁর অভিযোগ, ভারত "জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে", চেনাব নদীর প্রবাহে কারচুপি করছে এবং তথ্য গোপন করছে। তবে পাক মন্ত্রীর বক্তব্য স্ববিরোধিতায় ভরা। তিনি স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানি একাধিক টিম অতীতে প্রায় ১১৫বার পরিদর্শন চালিয়েছে, তবুও গত এক বছরে এ বিষয়ে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই।

এদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (বিশেষ করে সিন্ধু ও বালুচিস্তান অঞ্চলের মানুষ) তীব্র জল সঙ্কটের শিকার।

সিন্ধু সেচ বিভাগের সরকারি তথ্যে পরিকাঠামোগত ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে। উত্তর-পশ্চিম খালে জলের ঘাটতি ৬৪.১ শতাংশ, এবং রাইস ও দাদু খালে ঘাটতির পরিমাণ যথাক্রমে ৩৮ শতাংশ ও ৮২ শতাংশ। গুরুত্বপূর্ণ সুক্কুর ব্যারেজে জলের স্তর ক্রমাগত কমে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, অভ্যন্তরীণ জল বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতার কারণে দেশে "অর্থনৈতিক বিপর্যয়" ঘটতে পারে।