আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। মঙ্গলবার ইরানের এই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ কবে শেষ হবে সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, ঠিক করবে ইরানই।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আইআরজিসির এক মুখপাত্র ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যদি হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালী থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।

তাঁর কথায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হয় ‘সবার জন্য, নয়তো  কারও জন্য নয়।’ অর্থাৎ উত্তেজনা আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহণেও বড় প্রভাব পড়তে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়ে রাখল ইরান।

এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি তেল পরিবহণ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘২০ গুণ বেশি শক্তিশালী জবাব’ দেবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন জায়গায় হামলা চালানোর ক্ষমতা রয়েছে যেগুলো ধ্বংস করা সহজ।

তাঁর দাবি, সেই ধরনের হামলার মুখে পড়লে ইরানের পক্ষে দেশ হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘মৃত্যু, আগুন ও তাণ্ডব নেমে আসবে দেশজুড়ে, তবে আমি আশা ও প্রার্থনা করব যেন তা না ঘটে।’

সোমবার ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রাথমিক সময়সূচির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান সফল বলেও ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি।

তবে মিশন এখন শেষ হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের ড্রোন তৈরির কারখানাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে।

এর ফলে ইরান থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ ৮৩ শতাংশ কমে গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, গত শনিবার গভীর রাতে তেহরান এবং পার্শ্ববর্তী আলবোরজ প্রদেশে পাঁচটি তেলের ডিপোতে হামলা চালানো হয়। এর জেরে ব্যাপক আগুন লাগে এবং রবিবার পর্যন্ত রাজধানীর আকাশে ঘন ধোঁয়া ভাসতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, ইরান প্রশাসনের দাবি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে দেশটি। আইআরজিসির এক মুখপাত্রের দাবি, ইরান বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন মজুত করে রেখেছে।

প্রয়োজনে অন্তত ছ’মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইরানের। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কৌশল এবং আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের।