আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেনেরিক ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে বড় নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে এবং বিদেশের উপর নির্ভরতা কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। তবে প্রথম দুই বছর আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের উপর কোনও শুল্ক লাগবে না। এরপর তৃতীয় বছরে ১০০ শতাংশ এবং তার পরের বছর থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য হল জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন আমেরিকার মাটিতে ফিরিয়ে আনা। তাঁর কথায়, যেসব সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র বা কারখানা গড়ে তুলবে না, তাদের উপর এই উচ্চ শুল্ক কার্যকর হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, পেটেন্টপ্রাপ্ত বা ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান নীতি অপরিবর্তিত থাকবে।
এই ঘোষণার ফলে ভারতের ওষুধ শিল্পের উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতকে বিশ্বের "ফার্মেসি" বলা হয়, কারণ বিশ্বের বহু দেশে সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ করে ভারত। শুধু মার্কিন বাজারেই ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশ পরিমাণ আসে ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছ থেকে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানি করেছে। এটি ভারতের মোট ২৫.৮ বিলিয়ন ডলার ফার্মাসিউটিক্যাল রপ্তানির প্রায় ৩৮ শতাংশ। ফলে মার্কিন বাজারে শুল্ক বৃদ্ধি হলে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ব্যবসায় বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও এই নতুন শুল্ক নীতি বাস্তবে ভারতীয় সংস্থাগুলির উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে জেনেরিক ওষুধ ও তার কাঁচামাল নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ ছিল। ফলে সেই চুক্তির শর্ত নতুন নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, সংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসায় ভারতীয় জেনেরিক ওষুধের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই শুল্ক নীতি নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হয়, তাহলে ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলিকে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়াতে হবে, নয়তো বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। অন্যদিকে, মার্কিন বাজারে সস্তার জেনেরিক ওষুধের দামও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে লক্ষ লক্ষ রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ের উপর।
















