আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী এক ব্যবসায়ীকে খুন করার অভিযোগ উঠল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা যাচ্ছে, নরসিংদি জেলায় এক সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম শরৎ মণি চক্রবর্তী (৪০)। জানা গিয়েছে, তিনি এক মুদিখানার দোকানের মালিক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ নরসিংদি জেলায় শরৎ মণি চক্রবর্তী নামক ওই ব্যক্তির উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।

গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও পরে তিনি মারা যান। উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই যশোর জেলায় আরও এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়।

নিহত ৪৫ বছরের রানা প্রতাপ একটি কারখানার মালিক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁকে মাথায় গুলি করে এবং গলা কেটে খুন করে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রানা প্রতাপের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছিল।

কেশবপুর উপজেলার এক স্কুলশিক্ষকের ছেলে রানা প্রতাপ গত দু’বছর ধরে কোপালিয়া বাজারে একটি বরফ কারখানা চালাতেন। সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে কারখানা থেকে ডেকে বের করে একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে গুলি করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে রানা প্রতাপের দেহের পাশ থেকেই সাতটি গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, হামলাকারীরা মোটরবাইকে করে এসেছিল।

প্রথমে রানা প্রতাপের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে, এরপর তাঁর মাথা লক্ষ্য একাধিক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রানা প্রতাপের মাথায় তিনটি গুলি লাগে। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।’

অন্যদিকে, সোমবার সংখ্যালঘু বিধবা মহিলাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এমনকী, ধর্ষণের পর বিধবাকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। 

সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। নদীপাড়া এলাকায় ৪০ বছর বয়সি ওই বিধবা গণধর্ষণের অভিযোগ জানিয়েছেন দু'জনের বিরুদ্ধে।

অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় নির্যাতিতা বিধবাকে স্থানীয়রাই ঝিনাইদহের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রথমে ওই বিধবা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেননি।

পরে মেডিক্যাল টেস্টে জানা যায়, তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার। পুলিশকে ওই বিধবা জানিয়েছেন, গত শনিবার সন্ধায় আচমকাই বাড়িতে ঢোকেন শাহিন ও তাঁর সঙ্গী হাসান।

ঘরে বন্দি করে দু'জনে মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন। পাশাপাশি সেদিন তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার দাবিও করেন দুই অভিযুক্ত যুবক। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেন তিনি। যা ঘিরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। 

এরপরই শাহিন ও তাঁর সঙ্গী হাসান বিধবাকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। শুধু তাই নয়, তাঁর চুলও কেটে নেওয়া হয়। সেই নির্যাতন ক্যামেরাবন্দি করে, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন তাঁরা। 

নির্যাতিতা বিধবা আরও জানিয়েছেন, আড়াই বছর আগে শাহিন ও তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে  জমি-সহ একটি দোতলা বাড়ি কিনেছিলেন।

তখন থেকেই শাহিনের কুনজরে পড়ে যান তিনি। তাঁকে অতীতেও একাধিকবার কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন শাহিন। তাতে রাজি হননি তিনি। এরপর থেকেই শাহিন তাঁকে হেনস্থা করতে শুরু করেন। 

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা দেশছাড়ার পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন দিনের পর দিন বাড়ছে ইউনুস সরকারের আমলে। দিন কয়েক আগেই ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস এবং ঢাকায় অমৃত মণ্ডলের মৃত্যু ঘটনা সেদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

দীপু চন্দ্র দাসের পরে খোকন দাস। গত বুধবার রাতে উন্মত্ত জনতা প্রৌঢ় খোকনকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি।

শরীরে প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার মারা যান বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার তিলোই গ্রামের বাসিন্দা খোকন দাস।