আজকাল ওয়েবডেস্ক:  দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বিনামূল্যে ব্যবহার করে আসছেন হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিতে বদল আনছে মেটা। সংস্থাটি তাদের জনপ্রিয় অ্যাপগুলির জন্য ধাপে ধাপে পেইড সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু করেছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীদের মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।


সম্প্রতি অনেক ব্যবহারকারী হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবে লগ-ইন করার সময়  আপগ্রেড করার বার্তা দেখতে শুরু করেছেন। এটি কোনও আলাদা বা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নয়, বরং অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যেই থাকা একটি প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা। এই পরিষেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত কাস্টমাইজেশন, উন্নত চ্যাট ম্যানেজমেন্ট এবং আরও কিছু বিশেষ ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।


বর্তমানে ভারতে WhatsApp Plus, Facebook Plus এবং Instagram Plus-এর মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য ৯৯ টাকা। তবে প্রথম ছয় মাসের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, পাওয়ার ইউজারদের জন্য Meta One Plus এবং Meta One Premium নামে আরও উন্নত সাবস্ক্রিপশনও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এগুলির মাসিক মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৭৭৫ টাকা এবং ১,৯৩৯ টাকা। এই প্ল্যানগুলিতে উন্নত AI ফিচার, বেশি AI রিজনিং ক্ষমতা এবং উন্নত কনটেন্ট জেনারেশনের সুবিধা মিলবে।


কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?
বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্যতম বড় কারণ মেটার দ্রুত বাড়তে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত ব্যয়। তারা এআই কাঠামো, ডেটা সেন্টার এবং উন্নত কম্পিউটিং ক্ষমতা তৈরিতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। ২০২৬ সালে এআই সংক্রান্ত মূলধনী ব্যয় ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে সংস্থার পূর্বাভাস।


এআই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে মেটা সম্প্রতি Scale AI-এর প্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার ওয়াং-কে নিজেদের সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবের নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে। এছাড়া ভারতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যৌথভাবে গুজরাটের জামনগরে এআই ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার কাজও শুরু করেছে সংস্থাটি।


প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের আয়ের উপর নির্ভর করে এত বড় এআই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা কঠিন। তাই সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক আয়ের নতুন পথ তৈরি করাই মেটার মূল লক্ষ্য।


এখনও বিজ্ঞাপনের উপরই নির্ভরশীল মেটা 
সংস্থার আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে মেটার মোট আয়ের ৯৭.৬ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে। অর্থাৎ, দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও বিজ্ঞাপন ছাড়া অন্য উৎস থেকে আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই কারণেই এখন সাবস্ক্রিপশন পরিষেবার উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মেটা।


একাধিক আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার অনুমান, আগামী কয়েক বছরে এই সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা থেকে বছরে ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় হতে পারে। যদিও বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই পূর্বাভাস নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।


ব্যবহারকারীরা কী পাবেন?
বর্তমান সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানগুলিতে অতিরিক্ত প্রোফাইল কাস্টমাইজেশন, আরও বেশি চ্যাট পিন করার সুবিধা, স্টোরি সম্পর্কিত কিছু বিশেষ ফিচার এবং উন্নত এআই টুল ব্যবহার করা যাবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বড় অংশ এই পরিষেবার জন্য অর্থ খরচ করতে কতটা আগ্রহী হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই পদক্ষেপ মূলত এআই যুগে নিজেদের ব্যবসায়িক মডেলকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ। আগামী দিনে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ার উপরই নির্ভর করবে এই সাবস্ক্রিপশন পরিষেবাগুলি কতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।