আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ২০২০ সালে মহাসড়কে তিন সন্তানের সামনে এক ফরাসি মহিলাকে বন্দুকের মুখে গণধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছে লাহোর হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল আবেদন খারিজ করে বুধবার এই রায় দেয় উচ্চ আদালত।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাহোর-শিয়ালকোট মোটরওয়েতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ওই ফরাসি নাগরিককে পাশবিক নির্যাতনের এই ঘটনাটি পুরো পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছিল。 সে সময় ৩২ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় লাহোরের কাছে আচমকা জ্বালানি শেষ হয়ে গাড়িটি দাঁড়িয়ে পড়ে。 তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেই সুযোগে আবিদ আলি ও শাফকাত আলি নামের দুই সশস্ত্র ব্যক্তি জোরপূর্বক গাড়িতে ঢুকে প্রথমে পরিবারটির কাছে থাকা জিনিসপত্র লুট করে এবং পরে ওই মহিলাকে রাস্তার পাশের একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে তাঁর সন্তানদের সামনেই বন্দুকের মুখে গণধর্ষণ করে।

এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। সেই সময় পাঞ্জাব পুলিশের তৎকালীন প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর শেখ উল্টো ভুক্তভোগী নারীর ওপর দোষ চাপিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, "আমাদের সমাজ নারীদের এত রাতে একা বাইরে থাকার অনুমতি দেয় না"। পুলিশ কর্তার এমন আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং তাঁকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে রাজপথে নামেন আন্দোলনকারীরা।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের মার্চ মাসে লাহোরের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই মামলার দুই মূল অপরাধী আবিদ আলি ওরফে মালহি এবং শাফকাত আলি ওরফে বাজ্ঞাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই দোষীরা উচ্চ আদালতে আপিল করেছিল। অবশেষে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ শাহবাজ আলি রিজভি ও বিচারপতি তারিক মেহমুদ বাজওয়ার সমন্বয়ে গঠিত লাহোর হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ আসামিদের আবেদন খারিজ করে নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায়ই চূড়ান্তভাবে বহাল রাখল।