আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইথিওপিয়ার এক গ্রামীণ এলাকায় বড় হওয়া ১২ বছরের কিশোর মার্কোস আবায়ের পশুপাখিদের প্রতি ভালোবাসাটা বড্ড গভীর। তাই চলতি মাসের শুরুর দিকে যখন তার আদরের মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং কোনও ঘরোয়া টোটকাতেই কাজ হচ্ছিল না, তখন মার্কোসের মাথায় আর কিছু খেলেনি। সে চটপট জুতোজোড়া পায়ে গলিয়ে সোজা রওনা দিল স্থানীয় হাসপাতালের দিকে—কারণ তার সরল মনে হয়েছিল, অসুস্থ হলে তো হাসপাতালেই যেতে হয়!
আমহারা অঞ্চলের ডেনবেচা প্রাইমারী হাসপাতালের এক নার্সের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া সেই মুহূর্তটি টিকটকে ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো সাড়া পড়ে গেছে। প্রায় পৌনে আট লাখ মানুষ দেখে ফেলেছেন ইথিওপিয়ান এই কিশোরের নিষ্পাপ ভালোবাসার গল্প। ভিডিওতে দেখা যায়, বুকে সযত্নে মুরগিটিকে জড়িয়ে ধরে মলিন মুখে নার্সকে মার্কোস বলছে, "ওর বুক থেকে কেমন যেন ঘড়ঘড় আওয়াজ হচ্ছে।" তখন উমের চানে নামের ওই নার্স পরম স্নেহে তাকে বুঝিয়ে বলেন, "শোনো বাবা, পশুপাখিদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ডাক্তার আছেন, তোমাকে সেখানে যেতে হবে। এটা তো মানুষের হাসপাতাল, বুঝতে পেরেছ সোনা?"
আসলে মুরগিটির অবস্থা খারাপ দেখে মার্কোসের অভিভাবক ও কাকা তাকে কোনও পেশাদার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ডেনবেচায় যে পশু হাসপাতাল আছে, তা এই অবুঝ কিশোরের জানাই ছিল না। হাসপাতাল থেকে ফিরে অবশ্য সে মুরগিটিকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসার পর পাখিটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া মার্কোস বিবিসি-কে আনন্দের সাথে জানায়, "আমার মুরগিটা এখন বেশ ভালো আছে। ওর জন্য আমি যে ১২টি ডিম জমিয়ে রেখেছিলাম, সেগুলো এবার ওকে তা দেওয়ার জন্য দেব।"
মার্কোসের চাচা কেলেমেওয়ার্ক আমোনে জানান, মুরগিটি অসুস্থ হওয়ার পর মার্কোস এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে খাওয়া-দাওয়া ও পড়াশোনা সব বন্ধ করে দিয়েছিল। সে সারাক্ষণ পাখিটির দিকে খেয়াল রাখে, এমনকি মাটিতে কোথাও গর্ত দেখলে তার আদরের মুরগিটি যেন পড়ে না যায়, সেজন্য ছোট ছোট ছোট কাঠের সেতুও বানিয়ে দেয়! ২০২৩ সালের আগস্টে আমহারা অঞ্চলে যখন সরকারি বাহিনীর সাথে স্থানীয় মিলিশিয়াদের সংঘর্ষ শুরু হয়, তখন নিরাপত্তার কথা ভেবে দাদু-দিদিমা মার্কোসকে তার কাকার কাছে পাঠিয়ে দেন। আর বিদায়বেলায় নাতিকে ভালোবেসে উপহার দিয়েছিলেন এই মুরগিটি। সেই থেকেই এটি তার সঙ্গী।
হাসপাতালের সেই নার্স উমের জানান, লোকজন যখন মার্কোসকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল, তখনও সে পরম মমতায় মুরগিটিকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল। তার মুখের সেই সরলতা ও দয়া দেখেই উমের ভিডিওটি তুলেছিলেন। প্রথমে বাড়িতে এসে মার্কোস শুধু বলেছিল যে মানুষ তাকে দেখে হেসেছে, কিন্তু পরে ভিডিওটি ভাইরাল হলে বাড়ির সবাই আসল ঘটনা জানতে পারেন। আর এই অভাবনীয় মানবিকতার গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একটি পোল্ট্রি খামার কোম্পানি মার্কোসকে উপহার হিসেবে ১০০টি মুরগি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, পাশাপাশি তাকে পোল্ট্রি ফার্মিংয়ের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
















