আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরমাণু চুক্তি নিয়ে ফের ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছে আমেরিকা। শুক্রবার থেকে ওমানে শুরু হবে সেই আলোচনা। যদিও এই পরিস্থিতিতেও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এবার অবশ্যই খামেনেইয়ের চিন্তিত হওয়া উচিত।
এটা ঘটনা, পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চাপানউতোর চলছেই। ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন, ইরানকে সমঝোতায় আসতে হবে। যদিও ইরান বারবারই স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির সামনে মাথা নোয়াবে না। উল্টে জানিয়েছে, নিজেদের শর্তে আলোচনা করতে প্রস্তুত তারা। এর মধ্যে ইরানে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ এবং তা নিয়ে ইরান কর্তৃপক্ষকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক ফের তলানিতে চলে যায়। তবে পশ্চিম এশীয় বেশ কয়েকটি দেশের উদ্যোগে আবার দুই দেশ পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার থেকে পশ্চিম এশিয়ার দেশ ওমানে এই বৈঠক বসতে চলেছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির আলোচনায় থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তবে তার মধ্যেও খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সুর নরম করতে রাজি নন ট্রাম্প। এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প খামেনেই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি এটাই বলব ওঁর (খামেনেইয়ের) খুব চিন্তিত হওয়া উচিত। অবশ্যই হওয়া উচিত।’
এটা ঘটনা, আমেরিকা চায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ–সহ যাবতীয় পরমাণু কর্মসূচি একেবারে বন্ধ করে দিক ইরান। কিন্তু আমেরিকার এই দাবি মানতে রাজি নয় ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানকে ইতিমধ্যেই ট্রাম্প হুমকি দিয়ে রেখেছেন, পরমাণু চুক্তিতে সই না করলে সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে হবে। ইরানও পাল্টা সতর্ক করে আমেরিকাকে। জানিয়ে দেয়, খামেনেইয়ের উপর হামলা হলে, সেটা যুদ্ধ হিসাবেই দেখবে তারা। তবে সেই আবহে আলোচনা শুরু হচ্ছে ওমানে। তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি বৈঠকে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকের মত। অনেকের মতে, বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই তা ভেস্তে যেতে পারে।
