আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১২ ডিসেম্বর। ঢাকায় খুন হন, ওসমান হাদি। হাদিকে খুনের দায়ে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ভারত থেকে। সেই ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল ঢাকা। মাসখানেক পর, হাদি-হত্যা প্রসঙ্গ পুনরায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। 

কারণ, ২ জুন, ভোটে হারার পর, প্রথমবার পথে নেমেই, বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, একটি মন্তব্য করেন। ওয়াই চ্যানেলে কারও নাম না করেই মমতা বলেন-বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামী ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবিষয়ে দেশের স্বার্থের কথা তুলে ধরে তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। এদিন মমতা বলেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।

তাঁর সংযোজন ছিল-বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন। এটি নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভুলিউশন হয়েছিল। মেঘালয় দিয়ে সে বাংলায় চলে আসে তাকে এসটিএফ ধরে। তারপর হোম মিনিষ্টার নিজে ফোন করে বলেন। এতদিন আমি বলিনি। আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় চলে গিয়েছেন বলে এই নামটা এখনও বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালবাসি। 

তিনি বলেন, '‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজ গভর্নমেন্ট পরিবর্তন হলেও মনে রাখবেন আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথাভান্ডার, তথ্যভান্ডার, সত্যভান্ডার। আমি তো সম্পদের ভয়ে কর্মীদের জলে ভাসিয়ে দিয়ে দল ছেড়ে চলে যাব না।’

মমতার মন্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলিও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে জল্পনা ছিল, এই মন্তব্য দু-দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে কিনা। তবে, একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ৪ জুন, ইনকিলাব মঞ্চ সাংবাদিক বৈঠক ডাকে। হাদি-হত্যার প্রসঙ্গ তুলে এনে, একগুচ্ছ অভিযোগ করে। শাহবাগে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনাও ছিল তাদের। এছাড়া একাধিক জায়গায় ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে হাদি-হত্যা প্রসঙ্গ।

অন্যদিকে, এই মন্তব্যের জন্য মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের  হয়েছে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী রিঙ্কি সেন চ্যাটার্জি তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ‌ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের এক হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দুই দেশের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন।