আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাসের পর মাস ভাড়া দেয় না ভাড়াটে দম্পতি। সেই ভাড়া চাইতে গিয়েই চরম পরিণতি হল ফ্ল্যাটের মালিকের। নির্মমভাবে তাঁকে খুন করে, সুটকেসে দেহ ভরে লুকিয়ে রাখল তারা। শেষমেশ ফাঁস আসল কীর্তি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ি ভাড়া ঘিরেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ভাড়াটে দম্পতির কাছে টাকা চাইতে গিয়েছিলেন ফ্ল্যাটের মালিক। গত কয়েক মাস ধরেই সময় মতো ভাড়া দিচ্ছিল না ওই ভাড়াটে দম্পতি। সেই ভাড়া চাওয়ায় ফ্ল্যাটের মালিককে শ্বাসরোধ করে খুন করে তারা। খুনের পর দেহটি সুটকেসের মধ্যে ভরে, বিছানার তলায় লুকিয়ে রাখে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নন্দগ্রাম থানা এলাকায় রাজনগর এলাকায় অউরা চিমেরা সোসাইটিতে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম, দীপশিখা শর্মা। তিনি গাজিয়াবাদের বাসিন্দা উমেশ শর্মার স্ত্রী ছিলেন। সেই এলাকায় দীপশিখা শর্মার আরেকটি ফ্ল্যাট ছিল। সেটি ভাড়া দিয়েছিলেন অজয় গুপ্ত ও আকৃতি গুপ্ত নামের দম্পতিকে।
জানা গেছে, গত পাঁচ থেকে ছ'মাস ফ্ল্যাটের ভাড়া দিচ্ছিল না গুপ্ত দম্পতি। গত ১৭ ডিসেম্বর সেই ফ্ল্যাটের ভাড়া চাইতেই ভাড়াটের দম্পতির কাছে যান দীপশিখা। তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। দীর্ঘক্ষণ না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের ও প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। গুপ্ত দম্পতির ঘরে ঢুকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন সকলে। সেই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে সুটকেস থেকে দীপশিখার দেহ উদ্ধার হয়।
দেহ উদ্ধারের পরেই ঘাতক দম্পতি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটকে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে তারা।
গত মে মাসে আরেকটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল। ঝোঁপ থেকে উদ্ধার হয়েছিল একটি সুটকেস। কিন্তু সেটি এত ভারী কেন? সন্দেহের বশে সেই সুটকেস খুলতেই শিউরে উঠেছিল পুলিশ। সেটির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় এক নাবালকের নিথর দেহ। এ ঘটনায় নাবালকের মাকে আটক করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মহিলার প্রেমিককেও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল অসমের গুয়াহাটিতে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ওই মহিলা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। জানান, টিউশন থেকে আর বাড়ি ফেরেনি দশ বছরের ছেলে। এরপর পুলিশ খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মহিলা ও তাঁর প্রেমিককে। তখনই সন্দেহ হয় জিতুমনি হলুইয়ের উপর। পাশাপাশি একটি ভারী সুটকেসের সন্ধান পায় পুলিশ।
দীর্ঘক্ষণ জেরার পর জিতুমনি স্বীকার করেন, শনিবার নাবালিকাকে অপহরণ করে, শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এরপর সুটকেসে ভরে ওই ঝোঁপের মধ্যে ফেলে দেন। রবিবার সেই সুটকেস থেকে নাবালকের দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় যুবক ও মহিলাকে।
পুলিশ আরও জানিয়েছিল, মহিলা বিবাহিত। তবে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। সন্তানকে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। সম্ভবত দশ বছরের নাবালক ছিল তাঁদের সম্পর্কের 'পথের কাঁটা'। তাকে সরাতেই খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন দু'জনে। মহিলার স্বামীকেও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
