আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘোড়ায় চড়ে বিয়েতে যাওয়ায় ঘটল বিপত্তি। বিয়ের আসরে যাওয়ার পথেই দলিত পাত্রকে লক্ষ্য করে তলোয়ার নিয়ে হামলা। বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে খাস মোদি-শাহের রাজ্যে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের পাটান জেলায়। আহত দলিত পাত্রের নাম, বিশাল চাভদা। গতকাল সোমবার ছিল তাঁর বিয়ে। চন্দ্রুমানা গ্রামে বিয়ের আসরে পৌঁছনোর জন্য ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করেছিলেন তিনি। ব্যান্ড পার্টি সহযোগে বিয়ের আসরে যাওয়ার পথেই ঘটে বিপত্তি। আচমকাই তলোয়ারের শব্দে থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উঁচু জাতের কয়েকজন যুবক এসেই তলোয়ার নিয়ে দলিত পাত্রের উপর হামলা করেন। সাধারণত বিয়েতে ঘোড়ার গাড়িতে যাওয়ার রীতি রয়েছে উঁচু জাতের পরিবারে। কিন্তু দলিত হয়েও ঘোড়ার গাড়ি চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন ওই যুবকরা। 

হামলার সময় উঁচু জাতের ওই যুবকরা চিৎকার করে বলেন, 'দলিত হয়েও ঘোড়ায় চড়ার সাহস হয় কী করে?' ওই হামলায় বরযাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আহত হয়েছেন। এমনকী দলিত পাত্রও আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরেই থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন স্থানীয়রা। যদিও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। 

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল বিজেপি শাসিত আরেক রাজ্যে। ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে গিয়েছিলেন দলিত যুবক। তার জেরেই ধুন্ধুমার কাণ্ড। দলিত যুবকের ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার জেরে ব্যাপক অশান্তি ছড়ায় একটি গ্রামে। উঁচু জাতের বাসিন্দাদের দ্বারা রীতিমতো হেনস্থা হন বরযাত্রীরা। কাউকে কাউকে আবার মারধর করা হয়। এই ঘটনায় আহত হন একাধিক। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায়। দলিত যুবক ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন আত্মীয়রা। সেই মতো ঘোড়ার গাড়ির এক চালককেও খবর দেওয়া হয়। কিন্তু উঁচু জাতের প্রতিবেশী কয়েকজন যুবক তাতে আপত্তি জানান। শেষপর্যন্ত ঘোড়ায় চড়েই বিয়ের আসরে পৌঁছন যুবক। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠান মিটতেই অশান্তি ছড়ায় এলাকায়। 

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে যখন বরযাত্রীরা ফিরছিলেন, সে সময় তাঁদের উপর হামলা করেন একদল যুবক। তখনই ঘোড়ার গাড়ির চালক, দলিত যুবকের কয়েকজন আত্মীয়কে বেধড়ক মারধর করেন তাঁরা। এমনকী নিরীহ ঘোড়াটির উপরেও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। 

বরযাত্রীরা জানান, ঘোড়ার গাড়িটিও ভাঙচুর করে একদল যুবক। কয়েকজনের মাথায় বন্দুক রেখে টাকা, গয়না ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। বরযাত্রীরা এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।