আজকাল ওয়েবডেস্ক: "এটি কেবল অনশনের সমাপ্তি নয়, বরং জবাবদিহির সূচনা।" বৃহস্পতিবার রাতে ২৬ দিনের দীর্ঘ অনশন শেষ করেই বড় দাবি করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক জানান, প্রায় দুদিনের "দরকষাকষির" পর তিনি সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস পেয়েছেন, তবেই অনশন ভেঙেছেন। ওয়াংচুকের কথায়, "অবশেষে আমরা সরকারের কাছ থেকে সেই আশ্বাস পেলাম।"
ওয়াংচুককে কী আশ্বাস দেওয়া হেয়েছে?
১) ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহির বিষয়টি সংসদে আলোচনা করা হবে।
২) সাম্প্রতিক 'নিট' পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে
৩) দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী ও ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করা হবে না।
বৃহস্পতিবার রাতে, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁরই শেয়ার করা একটি ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, নাড্ডা ও সিংয়ের হাত ধরে ওয়াংচুক বলছেন, "অনশন ভাঙতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। আপনাদের ধন্যবাদ।" এরপর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, "গীতাঞ্জলি সবসময় আমার পাশে থেকেছে। আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই না, বরং আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই।"
ভিডিও ক্লিপটিতে নাড্ডাকে সরকারের দেওয়া আশ্বাসগুলো পড়ে শোনাতেও দেখা যায়।
'নিট' প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন করছিলেন ওয়াংচুক। ১৮ জুলাই, স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে সাফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো দ্রুত দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। দু'দিন শুনানির পর আদালত ওয়াংচুককে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে ওই হাসপাতালেই তিনি অনশন ভাঙেন।
সোনম ওয়াংচুকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা
ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনের অনশন শেষ করার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। এক্স-এ এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, "আমি সোনমজিকে অনুরোধ করছি যেন তিনি তাঁর দৈনন্দিন রুটিনে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং যত দ্রুত সম্ভব তাঁর আগের ওজন ফিরে পান। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্যের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।"
এর আগে, এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, "বন্ধুরা, আমি জানি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাই গত আড়াই মাসে এ বিষয়ে অনেক পদক্ষেপ করা হয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, "দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা এখন কারাগারে রয়েছে। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল এটা নিশ্চিত করা যেন শিক্ষার্থীদের একটি বছরও নষ্ট না হয়। অবিলম্বে পরীক্ষা আয়োজন করাটা অত্যন্ত জরুরি ছিল... আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি।"
















