আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের মহোবা জেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এমন কিছু কীর্তি সামনে এসেছে, যা শুনে চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ মানুষের। স্কুলের ভেতরেই দেদার মদ্যপান এবং অত্যন্ত আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত ওই প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম রমেশ চন্দ্র। স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ধরে স্কুলের পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করে আসছিলেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই প্রধান শিক্ষক সারাদিনই মদ্যপ অবস্থায় থাকতেন। শুধু তাই নয়, স্কুল চলাকালীনই জামাকাপড় ছেড়ে শুধুমাত্র অন্তর্বাস এবং তোয়ালে জড়িয়ে তিনি ক্লাসরুমের আশেপাশে ঘুরে বেড়াতেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই এই গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের একটি ফাঁকা ক্লাসরুমের ভেতর বেঞ্চের ওপর মদ্যপ অবস্থায় শুয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক। আর সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্কুলের পড়াশোনার মানোন্নয়নের জন্য যে স্মার্ট ক্লাসরুমের এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছিল, তাতে রমরমিয়ে চলছে অত্যন্ত অশ্লীল চটুল গান।
ভয়ে এতদিন মুখ না খুললেও, এখন পড়ুয়ারাও শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এক পড়ুয়ার অভিযোগ, স্কুলের ভেতর প্রধান শিক্ষকের এই সমস্ত অপকর্মের কেউ বিরোধিতা করতে গেলে, তাঁকে এসসি/এসটি (SC/ST) আইনে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ছোট ছোট শিশুদের সামনেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন ওই শিক্ষক। শুধু তাই নয়, রাতের বেলা বহিরাগত ও অসামাজিক লোকজন ডেকে স্কুলের ভেতরেই বসত মদের আসর। এককথায়, শিক্ষার মন্দিরকে কার্যত মদের ঠেকে পরিণত করেছিলেন তিনি।
গ্রামবাসীদের তরফ থেকে লাগাতার অভিযোগ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সহ-ব্লক শিক্ষা আধিকারিক অশ্বিনী যাদব নিজে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত চালান। অন-সাইট তদন্তে মদ্যপান এবং আপত্তিকর পোশাক পরে ঘোরার সমস্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এর পরেই সরকারি নির্দেশিকায় রমেশ চন্দ্রকে সাসপেন্ড করা হয়। তবে শুধু সাসপেনশনই নয়, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে শিক্ষা দপ্তর।
















