আজকাল ওয়েবডেস্কঃ কর্ণাটকের ডান্ডেলির এক রিসর্টে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। কয়েকদিনের ছুটির আনন্দময় মুহূর্তই বদলে গেল ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। ডান্ডেলির রোমাঞ্চকর জিপলাইন রাইড উপভোগ করার সময় আচমকাই ভেঙে গেল সুরক্ষাকবচ। প্রায় ৪০ ফুট উপর থেকে নিচে পড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন এক পর্যটক। হাড়হিম করা এই দুর্ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। যা ফের একবার 'অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

 

জানা গিয়েছে, আহত পর্যটকের নাম কুবের সুরপুর। তাঁর বাসস্থান কর্ণাটকের বিজয়াপুর জেলায়। মাঝ আকাশে জিপলাইনের তার বেয়ে এগোনোর সময় আচমকা এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এর পর উপর থেকে মাটিতে আছড়ে পড়ার ফলে কুবেরের দুই হাত ও পা ভেঙে গিয়েছে। আঘাত লেগেছে তাঁর স্নায়ুতেও।

 

কুবেরের পরিবারের অভিযোগ, জিপলাইনের সেফটি লক বা রক্ষাকবচ দুর্বল হওয়ায় মাঝ আকাশেই তা খুলে যায়। এ জন্য রিসর্ট কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছে কুবেরের পরিবার। তাঁরা জানিয়েছেন, জিপলাইনের সরঞ্জামগুলিতে মরচে ধরেছিল। সেগুলির সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণও করা হত না। ন্যূনতম সতর্কতা থাকলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত বলে দাবি তাঁদের।

 

দুর্ঘটনার পরপরই কুবেরকে প্রথমে ডান্ডেলি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর পর সেখান থেকে তাঁকে বিজয়াপুরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ওই হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মিরাজের একটি বিশেষ হাসপাতালে ফের স্থানান্তরিত করা হয়।

 

ঘটনার ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটনাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ দাবি তুলেছেন, 'অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস'-এর ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট চালু করার। সমাজমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "জিপলাইনের ডিজাইনটি বেশ ত্রুটিপূর্ণ ছিল। বেল্টটি শরীরের সঙ্গে এমনভাবে আটকে থাকা উচিত যাতে হাত ছেড়ে দিলেও কেউ পড়ে না যায়। পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা না থেকেও এই রাইড কীভাবে সরকারি অনুমোদন পায়?"

 

অন্য এক ব্যবহারকারীর মত, "এরপর কী হবে তা জানা কথাই। সামান্য কিছু টাকা জরিমানা করে কয়েক সপ্তাহ রিসর্ট বন্ধ থাকবে, তারপর আবার যে কে সেই। আসলে সাধারণ মানুষ কোনও বিচার পাবে না।"

 

ডান্ডেলির মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এই ঘটনার পর 'অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস'-এর ক্ষেত্রে সুরক্ষার কড়াকড়ি নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের ওপর।