আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি যন্তর মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র প্রতিবাদস্থলে সংহতি আর ভালোবাসার এক অনন্য ছবি ফুটে উঠল। দূর-দূরান্ত থেকে নাম না জানা অজস্র মানুষ খাবার ও পানীয় জল পাঠিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। ডেলিভারি অ্যাপের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে বার্তা— "কেরল থেকে অনেক ভালোবাসা"।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যারিকেডের কাছে দাঁড়িয়ে সুইগির ডেলিভারি পার্টনার অজয় ঠাকুর জানান, কেরল থেকে আসা এই খাবারের পার্সেলটি ছিল সেদিন আন্দোলনস্থলে তাঁর পঞ্চম ডেলিভারি। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন জুম্যাটোর কর্মী সন্দীপ, যিনি ইতিমধ্যেই আটবার খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। সিঙ্গাড়া, ভাত, মোমো, বার্গার থেকে শুরু করে প্যাটিস— দেশের নানা প্রান্ত, এমনকি মুম্বই থেকেও অনলাইনে অর্ডার করে খাবার পাঠানো হচ্ছে। মজার বিষয় হল, এই খাবারগুলো নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির নামে আসছে না; ডেলিভারি স্লিপে লেখা থাকছে, "যে কোনও আন্দোলনকারী, যিনি এখনও পর্যন্ত কিছু খাননি, তাঁকে এই খাবার দিয়ে দিন"। ডেলিভারি বয়রা ব্যারিকেড পার করে আসা মানুষদের হাতে এই পার্সেলগুলো তুলে দিচ্ছেন, যা পরে ভেতরে থাকা আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে।
প্রতিবাদস্থলে কেবল খাবার পাঠিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি দূর-দূরান্তের মানুষ, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হাত মেলাতেও এগিয়ে এসেছেন অনেকে। গুরগাঁও থেকে আসা ৩০ বছরের তানভি জানান, মঙ্গলবার সকালে পৌঁছেই তিনি খাবার বিলে সাহায্য করেন, আগের দিন পুলিশের টেনে নামানো আইসা-র (AISA) তাবু ফের খাটাতে হাত বাড়ান এবং পরে অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরেও সহায়তা করেন। হায়দরাবাদে থাকা বোনের অনুপ্রেরণাতেই একদিনের ছুটি নিয়ে তিনি এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ৩৪ বছরের নিত পাল সিংকে দেখা গেল আন্দোলনকারীদের হাতে বিস্কুট তুলে দিতে। মুম্বই থেকে ট্রেনে আসা এক ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত যুবককে জল ও খাবার দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে নিত পাল বলেন, "আমরা এখানে সবাই একটা পরিবার"।
হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে গিয়ে গড়ে উঠেছে নতুন বন্ধুত্বও। জিগমে ছিনজে খাম্পা এবং খালিদ তানভীর নামে দুই যুবক জানান, এই আন্দোলনেই তাঁদের প্রথম দেখা। গত দুই-তিন দিন ধরে তাঁরা একসঙ্গে ওআরএস (ORS) এবং খাবার বিলি করছেন। এই সমন্বয় ও সহযোগিতার ফলে প্রতিবাদস্থলের প্রাথমিক জল ও খাবারের সংকট মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই কেটে গেছে। আন্দোলনকারী 'হিন্দুস্তানি' নামে এক যুবক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জানান, যেখানে সামান্য জল পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল, এখন সেখানে আর কোনও অভাব নেই।
এই মানবসেবায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে দিল্লির অলাভজনক সংস্থা 'সচখণ্ড ফাউন্ডেশন'। 'সবার কল্যাণ' নীতিতে বিশ্বাসী এই সংস্থা দিনে তিনবার করে প্রায় ২,০০০ মানুষের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। সংস্থাটির সভাপতি তারণজ্যোত সিং গুলাটি জানান, তাঁদের ৬০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক শিফটে কাজ করছেন এবং খাবারের পাশাপাশি টর্চ, মশারি, এনার্জি ড্রিঙ্ক, ছাতা ও রেইনকোট বিতরণ করছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও নিজেদের উদ্যোগে খাবার ও জল সরবরাহের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে।
















